‘মৌলিক সংস্কার ও বিচার দৃশ্যমান না করে শেখ হাসিনার সিস্টেম রেখেই নির্বাচন হলে নতুন স্বৈরাচার নতুনভাবে ভোট ডাকাতির সুযোগ নেবে। আমরা সেটা চাই না’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালনা কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেলে নগরীর শাপলা চত্বরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রংপুর মহানগরীতে র্যালি শেষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর আগে পাবলিক লাইব্রেরি থেকে মিছিল বের করে মহানগর জামায়াত। এতে নেতৃত্ব দেন মাহবুবুর রহমান বেলাল, মহানগর আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি আনোয়ারুল ইসলাম কাজলসহ নেতৃবৃন্দ।
মিছিলটি নগর ভবন, সুপার মর্কেট মোড়, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, প্রেসক্লাব, জীবন বীমা মোড়, গ্রান্ড হোটেল মোড় হয়ে শাপলায় গিয়ে সমাবেশ করে। মিছিলে জাতীয় পতাকার প্লাকার্ড, মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে এবং বিভিন্ন শহীদদের ছবি সংবলিত প্লাকার্ড, জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন ছবি ব্যবহার করে অংশ নেয় নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা শেখ হাসিনার ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না। লীগ ধর, জেলে ভর, আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধসহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন। পরে শাপলা চত্বরে মহানগর আমির এটিএম আজম খানের সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, ‘বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি আমরা চাই। তার প্রমাণ হবে দুইটা। অবিলম্বে বড় বড় খুনিদের গ্রেফতার করতে হবে, তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করতে হবে এবং রায় দিতে হবে। আমরা চাই বিচার ও মৌলিক সংস্কারের মাধ্যমেই নির্বাচনে যেতে। যদি শেখ হাসিনার সিস্টেমকে রেখেই নির্বাচন হয়, তাহলে নতুন স্বৈরাচার, নতুনভাবে ভোট ডাকাতির সুযোগ নেবে। আমরা সেটা চাই না।
পলাতক পুলিশদের তালিকা প্রকাশ করতে না পারায় ইন্টিরিম সরকারের কড়া সমালোচনা করে বেলাল বলেন, ‘খুনিরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতারের ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা লজ্জিত হই তখন, যখন পুলিশের যারা খুনি কর্মকর্তা আছেন। যাদের তালিকা আমরা চেয়েছি। কিন্তু সরকার সেই তালিকা দিতে পারে নাই। একবছরেও কেন এই সরকার তালিকা দিতে পারলো না। এর সাথে কারা জড়িত তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা ধরে নেবো প্রশাসনে পুলিশে এখনো স্বৈরাচার দোসররা বসে আছে। ইন্টিরিম সেটা জেনেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’
এর আগে বিকেল পৌনে ৩টায় সর্বস্তরের ছাত্র জনতার ব্যানারে টাউন হল থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এতে জুলাই যোদ্ধারা অংশ নেন। প্রেসক্লাব ঘুরে মিছিলটি আবারো টাউন হলে গিয়ে শেষ হয়। অন্যদিকে বিকেল ৩টায় সিটি পার্ক মার্কেট থেকে গণমিছিল বের করে ইসলামী আন্দোলন। এর আগে খেলাফত মজলিশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন র্যালি করে। দুপুর ১২টায় শাপলা চত্বর থেকে মিছিল বের করে ছাত্রশিবির। তারা খামারমোড়, লালবাগ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে গিয়ে সমাবেশ করে। সমাবেশে সবাই এক বছরে জুলাই স্পিরিট বাস্তবায়নে অন্তর্বতীকালীন সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।