চার বছর আগে হারিয়ে যাওয়া একটি মোবাইল ফোনের ঘটনায় ফরিদপুরের মধুখালী থানা পুলিশ ৪৮ বছর বয়সী এক নারী উদ্যোক্তাকে খুঁজছে। ইতোমধ্যে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুই দফা অভিযান চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয় একটি পত্রিকা অফিসে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই নারী।

তিনি অভিযোগ করেন, কৌশলে নগ্ন ছবি ধারণ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল, কুপ্রস্তাব এবং চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুজ্জামান জানান, ঢাকার আদাবর থানায় মুন্সি আতিক হোসেন মোবাইল হারানোর অভিযোগ দায়ের করেছেন। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সেটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, মোবাইলের কাগজপত্র যার নামে, তিনিই আইনগতভাবে মালিক।

জানা গেছে, আতিক হোসেন মধুখালী উপজেলার গোন্দারদিয়া এলাকার বাসিন্দা। স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবার রয়েছে তার। ৯০-এর দশকে তিনি মধুখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বিএনপি সরকারের সময় কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন এবং শেখ হাসিনার আমলেও চাকরি করে দুই বছর আগে অবসর গ্রহণ করেন।

আতিক হোসেন জানান, তিন বছর আগে মোবাইলটি কেনার পর কাগজপত্রসহ হারিয়ে যায়। সম্প্রতি তিনি থানায় অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নারী উদ্যোক্তা জানান, গত চার বছর ধরে তিনি মোবাইলটি ব্যবহার করছেন এবং ফোন কেনার টাকাও তারই দেয়া।

তিনি বলেন, আতিক হোসেন তার পূর্ব পরিচিত এবং পারিবারিক যোগাযোগ ছিল। তার অভিযোগ, আতিক হোসেন মোবাইলে ব্যক্তিগত ছবি পাঠিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করেছেন, অফিসে ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত করিয়েছেন। মার্চ মাসে তিনি লেডিস আইটেমের দোকান খুললে পুলিশ সেখানে গিয়ে তার খোঁজ করে। মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছে আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে তাকে হেয় করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বাড়িতে তিনি ও তার বৃদ্ধা মা ছাড়া কেউ নেই। ভাইয়েরা বাইরে থাকেন। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ন্যায়বিচার দাবি করেন।’

আতিক হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তিনি ছবি বা ভিডিও পাঠানো কিংবা চাকরিচ্যুত করার সাথে জড়িত নন।’

তিনি বলেন, ‘মেয়েটি ডেসপারেট, তাকে অনেক টাকা দিয়েছেন, ‘বাড়ি করার জন্য দুই লাখ টাকা দিয়েছেন, মেয়েটির মা মাঝেমধ্যে তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।’ সব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আতিক হোসেনের বিপুল সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয়- মধুখালীতে দুই কোটি টাকার চারতলা ভবন, ঢাকার মোহাম্মদপুরে ১০ কোটি টাকার পাঁচতলা বাড়ি, মিরপুরে ১৫ কোটি টাকার বাড়ি, ৫০ একর জমি, দু’টি মাইক্রোবাসসহ প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে আতিক হোসেন বলেন, ‘তিনি তার স্টেটমেন্ট ডিক্লেয়ার করেছেন।’ সম্পত্তিগুলো তার কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এতো বছর চাকরি করেছি, কিছু সম্পত্তি তো রয়েছেই।’

তিনি সংবাদ সম্মেলনকে মিথ্যা দাবি করে বলেন, ‘ওরা তো মীমাংসার জন্য বসতে চাইছে, আবার সংবাদ সম্মেলন করছে- এটা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড হয়ে গেল না?‘