মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানি বিকাশের হেড অফিসের প্রতিনিধি পরিচয়ে গ্রাহকদের ফোন করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ জুলাই) ভোররাতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১০৬ পিস ইয়াবাসহ ৪২টি সিমকার্ড ও ১০টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
আটকরা হলেন মো: কামরুল মিয়া (৪০), অমরেশ বিশ্বাস (৩০), সোহান মালিক (২৪), হাফিজুর রহমান (৪২) ও শেখ শাকিল আহমেদ (২৬)। তারা সকলেই ডুমাইন বাজার এলাকার বাসিন্দা।
মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নুরুজ্জামান আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই প্রতারণা চক্রের বিস্তৃতি কেবল ফরিদপুরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সারাদেশেই তাদের এই অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিলো। এটি দেশের মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ডিজিটাল প্রতারণার ভয়ংকর ফাঁদ। আটকদের ফরিদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা ও আন্তর্জাতিক অর্থপাচার চক্রের সাথে জড়িতদের বিষয়ে ফরিদপুর সেনা ক্যাম্পে বিভিন্ন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এরপর সেনাবাহিনীর ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের নেতৃত্বে তিন দিন ধরে এই চক্রের ব্যবহৃত প্রযুক্তি, লোকেশন ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে অভিযান চালানো হয়।
জানা গেছে, প্রতারকরা বিকাশ, নগদ ও অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবার কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের প্রতিনিধি সেজে গ্রাহকদের ফোন করে তাদের অ্যাকাউন্ট, পিন ও ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) সংক্রান্ত নানা তথ্য সংগ্রহ করে কৌশলে তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে অবৈধভাবে অর্থ সরিয়ে নিচ্ছিল। প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া অর্থের একটি বড় অংশ বাংলাদেশে সক্রিয় শতাধিক অনলাইন জুয়া ও বেটিং সাইটে প্রবেশ করানো হতো। এই চক্র বিশেষ সফটওয়্যার ও E2E স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে অবৈধভাবে ‘শতভাগ জয়’ নিশ্চিত করে জুয়ার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করত। এই অর্থের একটি বড় অংশ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসী বাংলাদেশীদের দ্বারা তৈরি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে পাচার করা হয়। অবশিষ্ট অর্থ চক্রের সদস্যরা স্থানীয়ভাবে ভাগ করে নিতো।
সেনা সূত্র জানায়, দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, জনগণের ডিজিটাল লেনদেন এবং সমাজের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সেনাবাহিনী অবৈধ অর্থপাচার, মাদক, প্রতারণা ও সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে নাগরিকদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করার অনুরোধ জানানো হয়।