নেতৃত্ব তার কাছে নতুন কিছু না, ফাঁকে-ফোকরে অধিনায়কত্ব করতে হয়েছে বহুবার। তবে পূর্ণ মেয়াদে নেতৃত্ব পেয়ে লিটন দাস কেমন জানি এলোমেলো হয়ে গিয়েছিলেন, পড়ে যান চাপে।

যার প্রভাব পড়ে দলে। টাইগাররা আরব আমিরাতের কাছে সিরিজ হারে, পাকিস্তানের কাছে শিকার হয় ধবলধোলাইয়ের। এদিকে লিটনের ব্যাটেও রান নাই। ব্যাট যেন কথা শুনতেই চায় না!

এর মাঝে শ্রীলঙ্কা সফরে আসতে হয়। গল টেস্টে ড্র করলেও কলম্বোতে লজ্জায় ডুবতে হয়। ওয়ানডে সিরিজেও সুবিধা কর‍তে পারেনি দল, এদিকে লিটন বাদ পড়েন একাদশ থেকেই!

ব্যাটিং ব্যর্থতায় জায়গা হয়নি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলেও। শ্রীলঙ্কা সিরিজে ফিরলেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হোন। এদিকে আগের দুই টি-টোয়েন্টি সিরিজে হেরেছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে শুরু হয় সমালোচনা।

এর মাঝেই মাঠে গড়ায় প্রথম টি-টোয়েন্টি। বাংলাদেশ ব্যাটে-বলে কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি। হেরে যায় ৭ উইকেটে। লিটন দাসও ছিলেন ব্যর্থ, ১১ বলে করেন মাত্র ৬ রান।

একদিকে টানা ৬ ম্যাচে হার দলের, অন্যদিকে নিজের ব্যাটে ফিফটি নেই ১৩ ইনিংস ধরে। সব মিলিয়ে চাপ ও সমালোচনার পাহাড় কাঁধে নিয়েই দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলতে নামেন লিটন।

তবে এবার লিটন ফিরেন, ফিরে বাংলাদেশও। দারুণ প্রত্যাবর্তন ঘটে তার, খেলেন ৫০ বলে ৭৬ রানের ম্যাচজয়ী এক ইনিংস। ১৩ ম্যাচ পর ব্যাট উঁচিয়ে ধরেন আরো একবার। বাংলাদেশ ম্যাচটা জিতে যায় ৮৩ রানে।

ফিফটি পেলেও তেমন আলোচনায় আসা হয়নি, ভাবা হচ্ছিলো ‘চমক’। তবে ক্লাসিক্যাল লিটন ক্লাস দেখান গতরাতেও। যদিও ইনিংস বড় হয়নি, খেলেন ২৬ বলে ৩২ রানের ইনিংস।

সব মিলিয়ে সিরিজে ৩ ইনিংসে ১১৪ রান করেন লিটন, যা সিরিজের দ্বিতীয় সেরা। ১২০ রান নিয়ে সবার আগে পাথুম নিশানকা। তবে দল সিরিজ জেতায় সিরিজ সেরার পুরস্কারটা ভাগিয়ে নেন লিটন।

তার মতো প্রত্যাবর্তন রাঙান শেখ মেহেদীও। একটা সময় জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলের নিয়মিত মুখ হয়ে উঠলেও আরব আমিরাত ও পাকিস্তানে ভালো করতে পারেননি সেই দুই সিরিজের সহঅধিনায়ক।

গত মে মাসে আরব আমিরাত ও পাকিস্তান সফরের দলে তিনি ছিলেন লিটন দাসের ডেপুটি। কিন্তু আমিরাতের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজে খেললেন দু’টিতে, পাকিস্তানে শুধু প্রথম টি-টোয়েন্টি।

শ্রীলঙ্কায় এসেও টিম কম্বিনেশন মেহেদীকে খেলতে দিচ্ছিল না। প্রথম দুই ম্যাচে মেহেদী হয়ে থাকলেন দর্শক। তার জায়গায় খেললেন আরেক ‘মেহেদী’ মিরাজ। তবে মিরাজ হতাশ করায় শেষ ম্যাচে আবারো সুযোগ আসে তার।

সুযোগ পেয়ে দুই হাত ভরেই নিলেন তা। নতুন বলে শরীফুল ইসলামের সঙ্গী হয়ে একটা মেইডেন ওভারসহ ১১ রানে নেন ৪ উইকেট। যা তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। এদিকে ম্যাচটা ৮ উইকেটে জিতে যায় দল।

দলের জয়ে দারুণ ভূমিকা রাখায় মেহেদীর হাতে উঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। অর্থাৎ প্রত্যাবর্তন দারুণভাবে রাঙান শেখ মেহেদী।

লিটন-মেহেদীর এমন প্রত্যাবর্তনের দিনে অনন্য এক কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার মাটিতে যেকোনো ফরম্যাটে এবারই প্রথম সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল টাইগাররা। যা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-২০ তেও প্রথম জয়।