তাহিরপুরের ঐতিহ্য ও নান্দনিক কারুকার্যময় ৩ গম্বুজ মসজিদটি অস্তিত্ব সঙ্কটে

Printed Edition
bangla-2
তাহিরপুরের ঐতিহ্য ও নান্দনিক কারুকার্যময় ৩ গম্বুজ মসজিদটি অস্তিত্ব সঙ্কটে

মেহেদী হাসান ভূঁইয়া তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরের পাড়ে মুক্তিখলা-মল্লিকপুর গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে এক অনন্য স্থাপত্যনিদর্শন মুক্তিখলা-মল্লিকপুর শাহী জামে মসজিদ। তাজমহলের আদলে নির্মিত তিন গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদটি প্রায় শতবর্ষ ধরে কালের সাক্ষী হয়ে টিকে থাকলেও এখন অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। কালের ভারে জরাজীর্ণ অবস্থা, একাধিক ভূমিকম্পে সৃষ্ট ফাটল ও সংস্কারের অভাবে মসজিদটি যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মুসল্লিরা আতঙ্কের সাথে নামাজ আদায় করছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে মসজিদটি সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩৫৬ বাংলা সনে (১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দ) এলাকার কিছু শৌখিন ও ধনাঢ্য ব্যক্তির উদ্যোগ ও সহযোগিতায় মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণশৈলীতে তাজমহলের প্রতিফলন থাকলেও এর গায়ে ফুটে উঠেছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী নকশার নান্দনিক কারুকাজ। পুরান ঢাকা থেকে আনা কারিগররা এই মসজিদ নির্মাণে সময় ও শ্রম দেন। শোনা যায়, তখনকার সময়ে এর নির্মাণ ব্যয় ছিল প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা, যা সেই সময়ে বিপুল অর্থ হিসেবে বিবেচিত।

মসজিদটির অভ্যন্তরীণ নকশাও দৃষ্টিনন্দন। এর তিনটি গম্বুজ, খিলানযুক্ত জানালা ও দেয়ালে ফুটিয়ে তোলা নকশা মুসল্লিদের মুগ্ধ করে। দীর্ঘদিন এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় হয়ে এলেও এখন অবস্থা ভিন্ন। বয়সের ভারে গম্বুজের পাথর সরে যাওয়ায় সেগুলো খুলে ফেলা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে চিড় ধরেছে। ভূমিকম্পের আঘাতেও মসজিদের গঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে হাওরের পানি বেড়ে মসজিদের ভেতরে ঢুকে যায়। এমনকি বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি পড়ে বলেও মুসল্লিরা জানান।

গত ২৫ বছর ধরে মসজিদের ইমামতি করছেন মাওলানা আবুল কাসেম। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ মসজিদে নামাজ পড়াচ্ছি। আগে মুসল্লি কম ছিল; কিন্তু গত ৭-৮ বছরে মুসল্লির সংখ্যা বেড়েছে। এখন জায়গাও সঙ্কুলান হয় না। বৃষ্টি হলেই ভেতরে পানি পড়ে। বর্ষায় পানি ঢুকে যায়। সরকার যদি মসজিদটি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ দায়িত্ব নেয়, তাহলে এলাকাবাসী অনেক উপকৃত হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুজ জহুর ও গিয়াস উদ্দিন জানান, ‘মসজিদটির বয়স ৮০ থেকে ৯০ বছর। সরকার প্রাচীন ও ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকেন। এই মসজিদটিকেও সরকারের তত্ত্বাবধানে নেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।’

মসজিদ কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মসজিদটি প্রাচীন ও দৃষ্টিনন্দন হওয়ায় আমাদের গ্রামের সম্মান বেড়েছে। এটি আমাদের একমাত্র নামাজের স্থান। মসজিদটি না থাকলে আমাদের উপজেলা সদরে বা কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে নামাজ আদায় করতে হতো। দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন। কিন্তু অর্থের অভাবে আমরা পারছি না।’

এ ব্যাপারে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আব্দুল মতিন খান বলেন, প্রাচীন ও দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। সময়মতো সংস্কার না হলে ইতিহাসের অংশ এই স্থাপনাটি হারিয়ে যেতে পারে।