আগ্রাসন মোকাবেলায় বন্দুকের ট্রিগারে আঙুল রেখে প্রস্তুত ইরান : আরাকচি

Printed Edition

আলজাজিরা

যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে ইরান বন্দুকের ট্রিগারে আঙুল রেখে প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া পোস্টে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পোস্টে আরাকচি লেখেন, প্রিয় ভূমি, আকাশ ও সমুদ্রের বিরুদ্ধে যে কোনো আগ্রাসনের জবাবে তাৎণিক ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানাতে আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী ট্রিগারে আঙুল রেখে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসন চালায়, তাহলে ইরানের সশস্ত্রবাহিনী তাৎণিক ও শক্তিশালী জবাব দেবে। তিনি আরো লেখেন, গত বছরের জুনে ইসরাইলের কয়েক দিনব্যাপী সামরিক হামলা ও একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প থেকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার মধ্য দিয়ে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ১২ দিনের যুদ্ধ থেকে পাওয়া মূল্যবান অভিজ্ঞতা আমাদের আরো শক্তিশালী, দ্রুত ও গভীরভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর সমতা দিয়েছে।

আরাকচির এ বক্তব্য আসে এমন একসময়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারো ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারবিরোধী বিােভ দমনে ইরানের কঠোর অবস্থানের অজুহাতে ওয়াশিংটনের চাপ বাড়ছে তেহরানের ওপর।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া দীর্ঘ এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, একটি বিশাল সামরিক নৌবহর ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বহর প্রয়োজনে দ্রুত ও সহিংসতার সাথে তাদের মিশন বাস্তবায়নে প্রস্তুত, সম ও ইচ্ছুক।

ট্রাম্প আরো বলেন, আশা করি ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসবে এবং একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক চুক্তি করবে। কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়। সময় ফুরিয়ে আসছে, বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি! আমি আগেও ইরানকে বলেছিলাম, একটি চুক্তি করো। পারমাণবিক অস্ত্র প্রসঙ্গে ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে এমন অবস্থায়, যখন তিনি আগেও বারবার দাবি করেছেন যে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে গেছে। এ ছাড়া গত জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, তেহরান যদি চুক্তিতে সম্মত না হয়, তাহলে পরবর্তী হামলা হবে এর চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ।

সেনাবাহিনীতে এক হাজার নতুন ড্রোন

ইরানের সেনাবাহিনীতে এক হাজার নতুন ড্রোন যুক্ত করা হয়েছে। একই সাথে যেকোনো হামলার জবাবে ‘কঠোর ও ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া’ দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান। গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যখন মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় একটি নৌবহর মোতায়েন করেছে, সেই প্রোপটেই ইরান এ পদপে নিলো। ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান আমির হাতামি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, আমরা যে ধরনের হুমকির মুখে আছি, তার আলোকে দ্রুত যুদ্ধমতা বজায় রাখা এবং যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো আমাদের সেনাবাহিনীর প্রধান ল্য। তিনি আরো বলেন, কৌশলগত সমতা ধরে রাখা ও শক্তিশালী করা সব সময়ই ইরান সেনাবাহিনীর কর্মসূচির অংশ।