খুলনা-৫ আসনে গণসংযোগ

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস গোলাম পরওয়ারের

Printed Edition

ডুমুরিয়া (খুলনা) সংবাদদাতা

জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন- অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সব দলের জন্য সম-অধিকার নিশ্চিতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। আর এ দায়িত্ব প্রশাসনের। কোনো কোনো কর্মকর্তা বিশেষ একটি দলের প্রার্থীদের বেশি সুযোগ দিবে এমনটি অপ্রত্যাশিত। সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল বিকেলে খুলনা-৫ আসনের জিরোপয়েন্ট এলাকায় গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তফসিল ঘোষণার পর সব কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে আসে। সে জন্য কোনো দলের বিশেষ প্রার্থীকে বিজয়ী করতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা সুযোগ দেবেন, আমরা তা প্রত্যাশা করি না। তবে পিআর ও পাঁচ দফার যে আন্দোলনে রয়েছে আটটি দল- তারা দেশ ও জাতির কথা বিবেচনায় নিয়ে এই আন্দোলনের মাধ্যমে কোনো সঙ্ঘাত রক্তপাত হোক সেটি চায় না। তাই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। জনগণের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় গেলে সবাইকে নিয়ে সরকার গঠনের মাধ্যমে ওই সব দাবি বাস্তবায়ন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে দুপুরে ডুমুরিয়া উপজেলার কুলবাড়িয়ায় ইটভাটা মালিক-শ্রমিকদের এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি। ইটভাটা মালিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ও ব্যবসায়ী আবদুল লতিফ জমাদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা ওমর আলী, খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা আবু সাঈদ আহমুদ, উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ দেবপ্রসাদ, ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন সরদার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবদুর রশিদ বিশ্বাস, ছাত্রশিবির নেতা সামিদুল হাসান লিমন প্রমুখ।

সভায় গোলাম পরওয়ার বলেন, সংবিধান অনুযায়ী জনগণের ভোটে নির্বাচিত সদস্যদের তৈরি করা আইন অনুসারেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। আজকে ইটভাটা শ্রমিক ও গরিব-দুঃখী মানুষ জীবন-জীবিকা নিয়ে কষ্টে আছে। অন্যায়ভাবে ব্যবসা বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। আইনের অসঙ্গতির কারণেই এগুলো ঘটছে। ফলে আল্লাহ তায়ালার নাজিলকৃত কুরআনের বিধান ও হজরত মুহাম্মদ সা:-এর আদর্শের ভিত্তিতে যদি আইন করা হয়, আর পার্লামেন্ট সদস্যদের অর্ধেকের বেশি যদি হন আল্লাহ ওয়ালা; তা হলে আমাদের জীবন-জীবিকার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, সুশাসন ও কল্যাণ রাষ্ট্রের আইন আমরা তৈরি করব।

তিনি বলেন, অতীতে যারা দেশ শাসন করেছেন স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারাই উন্নয়নের কথা বলে ভোট নিয়েছেন, তারা গরিবদের ভাগ্যে নয়, বরং নিজেদের ভাগ্য বদল করেছেন। আমরা ইসলামী দলগুলো একমত হয়েছি যে, ৩০০ আসনে যারা যেখানে পরিচিত, যার যেখানে বিজয়ের সম্ভাবনা রয়েছে সে অনুসারে শীর্ষ নেতারা প্রার্থী ঠিক করে দেবেন। আমরা ভোট দেবো এক জায়গায়। ইসলামী সব দলের এক এক এলাকায় একজন করে প্রার্থী থাকবে। এটিই আমাদের সিদ্ধান্ত।

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, আমার এই আসনে ২০০১ সালে আপনারা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়েছিলেন। আমাকে বিজয়ী করেছিলেন। মুরুব্বিরা বলেছেন, আপনি এখানে যেহেতু এমপি ছিলেন- আপনি পরিচিত। এটি আপনার জন্যই থাকবে ইনশা আল্লাহ। আবার এমন আসন আছে যেখানে হাতপাখা থাকবে, সেখানে দাঁড়িপাল্লা থাকবে না। যেখানে রিকশা থাকবে সেখানে অন্য কোনো মার্কা থাকবে না।

মার্কা আমাদের একটিই থাকবে। আমরা সবাই কুরআনের আইনের পক্ষে যারা আছি, সবাই একটি করে ভোট দেবো। ইনশা আল্লাহ কোনো ব্যক্তি নয়, দল নয়, আমরা কুরআনকে পার্লামেন্টে নিতে চাই। তিনি বলেন, কুরআন শুধু মাদরাসা, মক্তব আর মসজিদে নয়- কুরআনকে বঙ্গভবনে ও পার্লামেন্টে নিতে চাই। আমার হিন্দু ভাইয়েরা বলেছেন, কুরআনের শাসন যদি জারি হয়, তাহলে আমরা হিন্দুরাও ভালো থাকব।

তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করেছি, এ কথা কেন বলেন আপনারা। তারা বলে আমরা বিশ্বাস করি কুরআন সৃষ্টিকর্তার আইন। সৃষ্টিকর্তা যে আইন জারি করে, সে আইনে মানুষের কল্যাণ হয়। তিনি বলেন, আমি এখন হিন্দু-মুসলিম সবাইকে বলি, সব দলকে দেখেছেন- এবার ইসলামী দলগুলোকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব দিয়ে দেখেন। দেশটি কেমন হয় একবার একটু দেখার সুযোগ দেন। এ সময় তিনি সবাইকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গ্রামগঞ্জে দাঁড়িপাল্লার এই গণজোয়ার দেখে আমার বন্ধুদের মাথা একটু খারাপ হয়ে গেছে। ওনাদের বলার মতো কিছু নেই- ওনারা এখন বলেন, ‘তারা বেহেশতের টিকিট বিক্রি করছে’। ভাই, আমরা বেহেশতের টিকিট বিক্রি করি না। আলেম ওলামা, পীর মাশায়েখরা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জাহান্নামের যে পথ, আর জান্নাতের যে পথ- নবী সা:-এর কাছ থেকেই এই দুটো পথের যে সন্ধান আমরা পেয়েছি। কোন পথে চললে জাহান্নাম থেকে বাঁচা যাবে, কোন পথে চললে জান্নাতে যাওয়া যাবে- সেই পথের শিক্ষাটা উম্মতে মোহাম্মাদী হিসেবে আমরা মানুষের কাছে পেশ করে থাকি। এইটা আমাদের দাবি, এটিই আমাদের দায়িত্ব। এর আগে বেলা ১১টায় কাঁঠালতলা বাজারে জনসংযোগ ও মঠবাড়ীয়া কওমি মাদরাসার শিক্ষক, ছাত্র ও এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।