জামায়াত জোট থেকে বেরিয়ে গেল ইসলামী আন্দোলন
২৬৮ আসনে একক প্রার্থী
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে বের হয়ে গেল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সমঝোতাভিত্তিক ১১ দলীয় জোটের বৃহস্পতিবারের আসন ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত না হওয়ার পর গতকাল তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ওই জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন ২৬৮ আসনে এককভাবে নির্বাচন করবে বলে জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। এ ছাড়া বাকি ৩২ আসনেও তারা অন্য দলকে সমর্থন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অবশ্য কোন দলকে সমর্থন করবে তা এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি তারা। তবে ইসলামী আন্দোলন জাতীয় পার্টির সাথেও যাবে না বলে জানিয়েছে।
অনেক টানাপড়েন ও জল্পনা কল্পনার পর গত ১৫ জানুয়ারি ১১ দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এ উপলক্ষে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের জন্য চেয়ার রাখা হলেও তারা সেখানে উপস্থিত হননি। ফলে তাদের জন্য আসন ফাঁকা রেখেই ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে সমঝোতাভিত্তিক এ জোট। তখনই ধারণা করা হয় ইসলামী আন্দোলন এ জোটে থাকছে না। ওই রাতেই তারা গতকালের সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেয়।
দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে আমির মুফতি রেজাউল করীম ও সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম উপস্থিত ছিলেন না। দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান সংবাদ সম্মেলনে জোট ছেড়ে আসার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, জামায়াতের আমির বিএনপির চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠক করে বিএনপির সাথে জাতীয় সরকার গঠন করার কথা বলেছেন, খালেদা জিয়ার তৈরি করা ঐক্যের পাটাতনের ওপরে কাজ করার কথা বলেছেন। তার এই বক্তব্য আমাদের মধ্যে সংশয় তৈরি করেছে, পাতানো নির্বাচনের আশঙ্কা তৈরি করেছে। এমন বাস্তবতায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতের সাথে নির্বাচনী সমঝোতায় থাকা সমীচীন মনে করে নাই।
তিনি আরো বলেন, শরিয়াহ আইনে দেশ পরিচালনা করবেন কি না এমন প্রশ্নে জামায়াতের আমির বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইনে দেশ শাসন করবেন। অথচ দেশের সব মানুষ একমত যে, দেশের বর্তমান দুর্দশার কারণ বিদ্যমান আইন। সেই বিদ্যমান আইন পরিবর্তন করার জন্যই আমাদের রাজনীতি। এখন যদি সমঝোতার প্রধান দলই বিদ্যমান আইনে দেশ পরিচালনার প্রতিজ্ঞা করে তাহলে আমরা শঙ্কিত হই। আমরা নীতির রাজনীতি করি। আমাদের রাজনীতির সেই মৌলিক প্রশ্নে যখন ভিন্নমত তৈরি হয় তখন তাদের সাথে সমঝোতায় থাকার কোনো সুযোগ নাই।
গাজী আতাউর বলেন, আমরা অত্যন্ত শঙ্কিত যে, আগামী দিনে আসলে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে কি না। আমাদের মধ্যে এই আশঙ্কা প্রবল হয়েছে যে, আমাদের সাথে ঐক্য করে পর্দার আড়ালে বা তলে তলে অন্য কোনো পরিকল্পনা করা হচ্ছে কি না। আজ এই বিষয়গুলো জনগণের সামনে প্রকাশ করা জরুরি বলে আমরা মনে করছি। জনগণ পরিস্থিতি উপলব্ধি করছে। আমাদের কাছেও বিভিন্ন দিক থেকে নানা ধরনের সংবাদ আসছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রের সাথে কী ধরনের পরিকল্পনা বা সমন্বয় করা হচ্ছে, তা আমাদের কাছে এখনো অস্পষ্ট।
নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার জানিয়ে গাজী আতাউর রহমান বলেন, সারা দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৬৮টি আসনে আমাদের প্রার্থী রয়েছে। বাকি ৩২টি আসন বর্তমানে ফাঁকা। তবে সেই আসনগুলোতেও আমরা সমর্থন দেবো। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর আমরা সিদ্ধান্ত নেবো ঠিক কাদের আমরা সমর্থন দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের নীতি, আদর্শ এবং লক্ষ্যের সাথে যাদের মিল থাকবে, তেমন যোগ্য প্রার্থীদেরই আমরা ইনশাআল্লাহ সমর্থন জানাব।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বাকি দলগুলোর লিয়াজোঁ কমিটির সভা হবে। তারপর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বসে বাকি আসনগুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা পিআর পদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ৮ দল অংশ নিয়েছিলাম। তাদের সাথে কোনো ধরনের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়নি। শুধু একটি মিটিং নিয়ে অসুস্থ থাকা ডা: আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সাহেব ভুলে গিয়েছিলেন, এজন্য স্যরি বলা হয়েছে।