৫ গোলে হেরে বিপদে বাংলাদেশ

উত্তর কোরিয়া ৫-০ বাংলাদেশ

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

চীনের মতো অতো শিরোপা নেই নারী এশিয়ান কাপে। তবে উত্তর কোরিয়াও এশিয়া চ্যাম্পিয়ন। তাদের নারী দল ২০০১, ২০০৩ ও ২০০৮ সালের নারী এশিয়ান কাপ জয় করে। তারা ২০০৭ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট। সিনিয়র লেভেলে এই কোরিয়ানদের বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড না থাকলেও অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপের সর্বশেষ দুইবারের শিরোপা জয়ী ছাড়াও মোট তিনবারের চ্যাম্পিয়ন। আর অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে তিনবারের সেরা। অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের মতো অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেরও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ৯-এ থাকা এই দলটির বিপক্ষে গতকাল মাঠে নেমেছিল ১১২তে থাকা বাংলাদেশ দল। নারী এশিয়ান কাপে আগের ম্যাচে ৯ বার এবং বর্তমান এশিয়ান কাপের চ্যাম্পিয়নদের কাছে ০- ২ গোলে হারই কাল ভালো কিছুর প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ দল। আসলে কোরিয়ানরা যে চাইনিজদের চেয়েও এগিয়ে কাল সেটার প্রমাণও দিয়েছে সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে। উত্তর কোরিয়ার কাছে বাংলাদেশের ০-৫ গোলে হার।

শক্তিশালী দলের বিপক্ষে প্রথমবার এশিয়ান কাপে খেলতে গিয়েই টানা দ্বিতীয় হার। কাল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পিটার জেমস বাটলার বাহিনীর এই পরাজয় বিপদেই ফেলে দিয়েছে। কারন কাল ‘বি’ গ্রুপের অপর ম্যাচে চীনের কাছে ০-৩ গোলে হেরেছে উজবেকিস্তান। ফলে বাংলাদেশকে টপকে উজবেকিস্তান এখন গ্রুপে তিন নম্বরে। তাই তিন গ্রুপের তিনটি করে নম্বর দলের মধ্যে সেরা দুইয়ে থাকার জন্য ৯ মার্চ বাংলাদেশকে জিততেই হবে। সে সাথে তাকিয়ে থাকতে হবে অপর দুই গ্রুপের ফলাফলের দিকেও। ড্র করলেই অলিম্পিক গেমসে খেলার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে।

চীনের সাথে খেলা একাদশ থেকে গতকাল দুই ফুটবলারকে বাদ দিয়ে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে দল মাঠে নামান কোচ পিটার জেমস বাটলার। ডিফেন্ডার শিউলী আজিম এবং মিডফিল্ডার উমেহেলা মারমার বদলে মিডফিল্ডার আইরিন খাতুন ও স্ট্রাইকার তহুরা খাতুন। কোচ ডিফেন্সে খেলোয়াড় কমিয়ে মিডফিল্ডে সদস্য সংখ্যা বাড়ান। অবশ্য এতে অল্পের জন্য প্রথমার্ধে গোল পোস্টকে অক্ষত রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৪ ও ২৭ মিনিটে কোরিয়ানদের দু’টি গোল ভিএআরের কারণে বাতিল হয়। এরপর ৩৮ মিনিটে কিয়ং ইয়ংয়ের হেড ক্রসবারে প্রতিহত হয়। মনে হচ্ছিল গোলশূন্যতেই ম্যাচ রেখে বিরতিতে যাবে সাফ চ্যাম্পিয়নরা। তবে প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে গোল হজম। বক্সে অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার প্রান্তি জার্সি টেনে ফেলে দেন বিপক্ষ খেলোয়াড়কে। এতে রেফারির দেয়া পেনাল্টি থেকে মায়ং ইউ জংয়ের গোলে এগিয়ে যায় ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কোরিয়া। সেই ইনজুরি টাইমেই দুই মিনিট পরে কোনাকুনি শটে বাংলাদেশ কিপার মিলি আক্তারকে পরাস্ত করেন কিম ইয়ং। সামনে থাকা আফঈদা খন্দকারের বাধা টপকে ডান পায়ে শট নেন তিনি। ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকু বক্সে বল ধরে ক্লিয়ার করতে দেরি করায় তার পা থেকে বল কেড়ে নেন কোরিয়ান ফুটবলার।

বিরতির ঠিক আগেই বাংলাদেশ দলে তিনটি পরিবর্তন আনা হয়। স্বপ্না রানী, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী ও উমেহেলা মারমাকে নামানো হয়। তুলে নেয়া হয় আইরিন, ছোট শামসুন্নাহার ও তহুরাকে। পরের ৪৫ মিনিটে বাংলাদেশও আক্রমণে উঠার চেষ্টা। এতে সেই হাই লাইন ডিফেন্স। আর সেই সুযোগেই ৬২ ও ৬৪ মিনিটে দুই গোল হজম বাংলাপদেশের। দুই গোলই ভুল পাসের খেসারতে। প্রথমে উন্নতি খাতুনের ভুল ব্যাক পাস থেকে বল পেয়ে কোরিয়ান ফুটবলার বক্সে বল ফেলেন। সেই বল আয়ত্বে নিতে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মিলি। তবে বলের কাছে যেতে পারেননি। এই সুযোগে চাই ইউন ইয়ং ফাঁকা পোস্টে বল পাঠালে দুই দফা পা পিছলে যাওয়া কোহাতি কিসকু দ্বিতীয় চেস্টাতেও বল ঠেকাতে পারেননি। বলের আশ্রয় জালে। দুই মিনিট পর বাংলাদেশ ডিফেন্ডার বক্সের ভেতর থেকে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তা জমা দেন কোরিয়ার ফুটবলারের পায়ে। এরপর থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে স্কোর ৪-০ করেন কিম ইয়ং। ৯০ মিনিটের পঞ্চম গোলটিও বাম দিক থেকে আসা ক্রস থেকে ডাইভিং হেডে। গোলদাতা কিম হায়ে ইয়াং।

আগের ম্যাচে চীনের বিপক্ষে গোলের সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তাদের পোস্টে বেশ কয়েকটি শটও নেয়া হয়েছিল। লাল-সবুজ জার্সিধারীরা একটি বারের জন্যও চীনা গোলরক্ষককে পরখ করতে পারেনি। আর পোস্টের নিচে মিলি আক্তারের প্রতিরোধ আরো বড় হারের লজ্জা থেকে রক্ষা করেছে ঢাকা থেকে যাওয়া দলটিকে।

পাঁচ গোলে হারের ফলে গোল গড় বিপদেই ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ দলকে। এর পরও কোচ বাটলার প্রশংসা করলেন আফঈদাদের। তার মতে আমরা যাদের সাথে খেলেছি তারা এশিয়ার সেরা দল। এখানে ৫-০, ৭-০ গোলে হারে লজ্জার কিছু নেই। সব দিক থেকেই এগিয়ে ছিল উত্তর কোরিয়া। তাদের থামানোই যাচ্ছিল না। অসম লড়াইয়ের এই ম্যাচে এমন পরাজয়ে লজ্জার কোনো কারণই নেই।’ এই ব্রিটিশ কোচ আরো জানান, প্রথম ৩০ মিনিটেই আমরা পাঁচ গোল খেতে পারতাম। এ জন্য গোলরক্ষক মিলি আক্তারের প্রশংসা কোচের মুখে। সে সত্যিকারের যোদ্ধা।’

পার্থে পরের ম্যাচে জিতলেই বাংলাদেশের নক আউটে উঠার সুযোগ হবে। তবে কোচ এখানে স্বপ্নটা অবশ্যই বাস্তব সম্মত করতে বললেন। জানান, এই লেভেলে খেলাটাই অনেক বড় বিষয়। জেতাটা বেশ কঠিনই। তবে এই আগমনটা জেগে উঠার বার্তাই দিয়েছে।’