বিদায়ী ভাষণে প্রধান বিচারপতির স্বীকারোক্তি
বিচারকদের নৈতিক বিচ্যুতিই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অনুঘটক
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
- দুর্নীতিমুক্ত না হলে স্বাধীনতা অর্থহীন
- সংস্কারের ধারাবাহিকতা রক্ষায় উত্তরসূরিদের প্রতি আহ্বান
বিচার বিভাগের অতীত ব্যর্থতা ও নৈতিক বিচ্যুতি স্বীকার করে ঐতিহাসিক বিদায়ী ভাষণে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্বে বিচার বিভাগ অসাংবিধানিক ক্ষমতা ও দুঃশাসনের অঘোষিত সহযোগী হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। অনেক বিচারক দুঃশাসনের বলয়কে আবরণ দিয়েছেন এবং অন্যায়-অবিচারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত হয়েছেন। বিচারকদের এই নৈতিক বিচ্যুতিই জনসাধারণকে জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
গতকাল বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দীর্ঘ অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি একই সাথে সতর্ক করে বলেন, ‘অনুপার্জিত অর্থের বাসনা, অস্বাভাবিক বিলাসী জীবন এবং অসঙ্গত ক্ষমতার প্রতিপত্তি যদি আমাদের মনকে কলুষিত করে রাখে, তাহলে পৃথিবীর কোনো আইনি বিধানই আমাদের সামষ্টিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারবে না।’
বিচারক, আইনজীবী, সাংবাদিক ও বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা কেবল শুরু, সর্বশেষ উদ্দেশ্য নয়। বিচারকদের উচিত সততা ও যোগ্যতার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হওয়া।
অন্ধকার অতীত স্বীকার : ভাষণের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশে প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের অন্ধকার অতীত স্বীকার করে বলেন, বিচার বিভাগ অসাংবিধানিক ক্ষমতা, অপশাসন ও রাষ্ট্রীয় কপট-কৌশলের অঘোষিত সহযোগী হিসেবেও পরিগণিত হয়েছে। দুঃশাসনের বলয়কে আবরণ দিয়েছেন অনেক বিচারক। অন্যায় ও অবিচারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত হয়েছেন। রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে বিচারকদের এই নৈতিক বিচ্যুতিও জনসাধারণকে শেষ পর্যন্ত জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার অন্যতম অনুঘটক বলে আমি মনে করি। একজন প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে বিচার বিভাগের এমন খোলামেলা সমালোচনা ও স্বীকারোক্তি নজিরবিহীন বলে আইনজীবী মহলে মনে করা হচ্ছে।
জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা : ভাষণের শুরুতেই প্রধান বিচারপতি ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ‘বক্তব্যের সূচনায় আমি ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের আত্মোৎসর্গকারী অমর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।’ তিনি বলেন, সেই সাথে গণজাগরণের সম্মুখসারিতে দাঁড়ানো ছাত্রসমাজ, সচেতন নাগরিক, ন্যায় ও স্বাধীনতার আকাক্সক্ষায় উদ্দীপ্ত প্রতিটি মানুষ এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার-সন্ধানী সব অংশগ্রহণকারীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। একই সাথে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে লড়াই করা বীরদের আত্মত্যাগ ও অবদান জাতির ইতিহাসে চিরকাল মর্যাদার সাথে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ক্রান্তিকালে দায়িত্ব গ্রহণ : প্রধান বিচারপতি স্মরণ করিয়ে দেন, এক চরম ক্রান্তিকালে, ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট তাকে দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিতে হয়। তিনি বলেন, ‘অস্থিতিশীল সরকার, উত্তেজিত জনতার মুখে পলায়নরত একটি বিচার বিভাগের দায়িত্ব আমার ওপর অর্পিত হয়।’ ২২ বছরের পথচলায় মিতভাষিতার শিষ্ট অনুশীলনকে আদর্শ হিসেবে ধারণ করলেও প্রধান বিচারপতির আসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর বাস্তবতা তাকে নতুন উপলব্ধির মুখোমুখি করে। তিনি বলেন, ‘সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনে শুরুতেই নীরবতা ভাঙতে হবে বলে আমার মন আমাকে নির্দেশ করেছিল।’
ঐতিহাসিক রোডম্যাপ ঘোষণা : দায়িত্ব নেয়ার পর গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর তিনি সারা দেশের বিচারকদের সমবেত করে বিচার বিভাগের আমূল সংস্কারের জন্য একটি রোডম্যাপ উপস্থাপন করেন। বিচারব্যবস্থার প্রশাসনিক জটিলতা, সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা ও নৈতিক অসামর্থ্যরে মূল উৎস চিহ্নিত করে তা থেকে উত্তরণের পথনির্দেশ তুলে ধরেন দায়িত্ব পালনের পর।
পৃথক সচিবালয় : স্বাধীনতার মাইলফলক
প্রধান বিচারপতি জানান, ‘মাসদার হোসেন’ মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনকে সর্বপ্রথম দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছিলেন, ‘বিচারকদের প্রকৃত স্বাধীনতা ততদিন পর্যন্ত নিশ্চিত হবে না, যতদিন না বিচার বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বিলোপ করে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।’ তার সৌভাগ্য যে পেশাগত যাত্রার প্রান্তসীমায় এসে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রণীত হয়েছে দেখতে পেয়েছেন। পৃথক সচিবালয়ের প্রশাসনিক নেতৃত্বে ইতোমধ্যে ‘সিনিয়র সচিব’ পদে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো-বিন্যাস তৈরি করে ৪৭২টি পদ সৃজনের প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে।
অংশীজনদের সম্পৃক্তি : প্রধান বিচারপতি জানান, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সচেতন থেকে শুরু থেকেই তিনি বিচ্ছিন্ন কর্মপন্থা পরিহার করেছেন। বরং সর্বস্তরের অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে পৃথক সচিবালয়ের ধারণাকে জনমানসে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়েছিলেন। সারা দেশের বিচারক, আইনজীবী, ন্যায়বিচার প্রত্যাশী নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, গবেষক, বিদেশী মিশনের উচ্চপদস্থ কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, আন্তর্জাতিক বিচার নেটওয়ার্ক এবং শান্তি-গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময়, সংলাপ ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সংস্কারের আবেদনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছেন।
কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন : প্রধান বিচারপতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম, নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক সমাজ, কলাম লেখক, জেলা আদালতের বিচারকগণ, জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এবং সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রি ও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যারা এই প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে তাকে অকুণ্ঠ সমর্থন প্রদান করেছেন। সর্বোপরি, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস এবং আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের প্রতি তিনি আন্তরিক ও অকৃত্রিম ধন্যবাদ জানান।
বিচারকদের জীবনমান উন্নয়ন : পৃথক সচিবালয়ের কাঠামো নির্মাণকে মূল অক্ষ ধরে তিনি তিনটি অতিরিক্ত অগ্রাধিকার সামনে এনেছিলেন। সেগুলো হলো-বিচারকদের জীবনমান উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বিচারিক সক্ষমতা ও পেশাগত দক্ষতার বিকাশ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে জবাবদিহিতা ও নৈতিক স্থিতি সুদৃঢ় করা।
দীর্ঘ পথ বাকি : তবে তিনি নিঃসংকোচে স্বীকার করেন, বিচারকদের জন্য উপযোগী কর্মপরিবেশ ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করতে এখনো একটি দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হবে। এই ক্ষেত্রে তিনি উত্তরসূরির বিশেষ মনোযোগ ও অগ্রাধিকারমূলক বিবেচনা প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ক্লান্ত এই কথা শুনে শুনে যে, বিচারকের জীবন সন্ন্যাসীর মতো। স্পষ্ট করে বলছি, এর অর্থ এই নয় যে বিচারককে পরিত্যক্ত বা জরাজীর্ণ ভবন থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
জ্ঞান অর্জনে উদাসীনতার সমালোচনা : প্রধান বিচারপতি বিচারকদের প্রতি কঠোর ভাষায় বলেন, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় চাকরিকালীন প্রশিক্ষণ-সংস্কৃতি এখনো কাক্সিক্ষত মানে পৌঁছায়নি। প্রায়োগিক প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য এখনো একটি আধুনিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায়নি। তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান সুযোগের ন্যূনতম সদ্ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিচারকদের বড় অংশের অনীহা ও কার্পণ্য পরিলক্ষিত হয়।
মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও পদোন্নতি : প্রধান বিচারপতি জানান, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে। অধ্যাদেশের ধারা ৬(২)-তে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে সাংবিধানিক যোগ্যতার পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা ও প্রশিক্ষণ; আইনের নির্দিষ্ট কোনো শাখায় বিশেষ জ্ঞান ও পারদর্শিতা; প্রার্থীর সামগ্রিক জ্ঞান, প্রজ্ঞা, সততা, সুনাম, নৈতিকতা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক মূল্যবোধকে সম্পূরক মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
মামলাজট নিরসনে পদক্ষেপ : প্রধান বিচারপতি পদ সৃজন কমিটি সংক্রান্ত আইন ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা ২০২৫’ প্রণয়নের জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান। ওই বিধিমালার আলোকে সর্বশেষ ২৩২টি জেলা জজ পদমর্যাদার পদ সৃজিত হওয়ায় বিচার বিভাগের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে একসাথে ৮২৬ জন বিচারক পদোন্নতি লাভ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই কমার্শিয়াল কোর্ট অধ্যাদেশের আলোকে আরো প্রায় ৭০টি বিচারিক পদ সৃষ্টি হবে এবং বিচারকের সংখ্যার অনুপাতে মামলার পরিমাণ কমাতে সাহায্য করবে।
দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর হওয়ার আহ্বান : প্রধান বিচারপতি অসৎ ও অসাধু বিচারকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে উল্লেখ করে বলেন, বিচারকদের দ্বারা সৃষ্ট যাবতীয় অন্যায়ের জন্য এখন থেকে অন্যের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ বন্ধ করতে হবে। জনগণের জন্য সংক্ষিপ্ত সময়ে সুবিচার নিশ্চিত করতে শতভাগ দায়িত্ব পালন করতে হবে। ‘পছন্দসই পদায়নের জন্য রাজনৈতিক পদলেহন পরিহার করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, আইন বৃহত্তর রাজনীতির একটা অঙ্গ হলেও, বিচারকদের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠার প্রয়াস রপ্ত করতে হয়।
উত্তরসূরিদের প্রতি আহ্বান : বিদায়ী ভাষণে প্রধান বিচারপতি তার উত্তরসূরিদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমি দীর্ঘ দেড় বছর ধরে নিরন্তর সংগ্রাম করেছি এ দেশের জনগণের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় বিচার বিভাগের পূর্ণ সক্ষমতা অর্জনে। কিন্তু, আমার বিদায়ের পর বিচার বিভাগের সংস্কারের উদ্দেশ্যে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে, তার উপর আমার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এই পদক্ষেপগুলোর স্থায়িত্ব নির্ভর করবে আপনাদের নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের ওপর।
তিনি পরবর্তী প্রধান বিচারপতিকে পৃথক সচিবালয়কে বাস্তবিক অর্থে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও ফলপ্রসূ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা এবং সংস্কারের ধারাবাহিকতা অটুট রাখার অনুরোধ করেন।
সমাপনী বক্তব্য
সমাপনী বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি ভারতের বিচারপতি ভি আর কৃষ্ণা আয়ারের একটি উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বিচার বিভাগ দেশের সবচেয়ে মহান প্রতিষ্ঠান এবং আমি দুই দশকেরও বেশি সময় এর সেবা করেছি। বিচার বিভাগের মর্যাদা রয়েছে এবং জনগণের শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু বিচারকদের সর্বোচ্চ দায়িত্ব হলো নির্ভীক সত্য, নৈতিক ন্যায়পরায়ণতা এবং ক্ষমতা ও লোভের প্রতি অনাসক্তির ভিত্তিতে ন্যায়বিচার প্রদান করা। আমাদের এই পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কোনো সার্থকতা নেই, যদি না আমরা ব্যক্তিগত অসততার ব্যাপারে সতর্ক থাকি। একটি স্বাধীন সচিবালয় কেবল শুরু, সর্বশেষ উদ্দেশ্য নয়। আপনাদের উচিত সততা আর যোগ্যতার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হওয়া।
তিনি যোগ করেন, অনুপার্জিত অর্থের বাসনা, অস্বাভাবিক বিলাসী জীবন এবং অসঙ্গত ক্ষমতার প্রতিপত্তি যদি আমাদের মনকে কলুষিত করে রাখে, তাহলে পৃথিবীর কোনো আইনি বিধানই আমাদের সামষ্টিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারবে না। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের সবার সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করি।
অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের সব বিচারপতি, বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি, বিভিন্ন জেলা জজ ও মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ ও টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে সারা দেশের বিচারকরা এই ঐতিহাসিক ভাষণ প্রত্যক্ষ করেন।