যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই

পল কাপুরের সাথে বৈঠক বাণিজ্যমন্ত্রীর

Printed Edition
first-4
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম পল কাপুর সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেসেন উপস্থিত ছিলেন : পিআইডি

বিশেষ সংবাদদাতা

বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি অপরিবর্তনীয় নয়। প্রয়োজন হলে আলোচনার মাধ্যমে এতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে। একই সাথে চুক্তিতে এমন কিছু উপাদান আছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে।

গতকাল বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ চুক্তির বিষয়ে বর্তমান সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। যদিও বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ চুক্তি তাদের মেয়াদের শেষ সময় তড়িঘড়ি করে স্বাক্ষর করেছে এবং এর নানা শর্ত নিয়ে বর্তমান সরকারের আপত্তির আশঙ্কা করেছিলেন অনেকে।

মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরো বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে এবং এটিকে ‘হোলসেল নেগেটিভ’ বা ‘হোলসেল পজিটিভ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ সাড়ে আট বিলিয়ন ডলারের বেশি এবং দেশটি থেকে প্রায় পৌনে তিন বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারদের একটি।

এ সময় চুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি এমন প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তি তো স্বাক্ষর হয়েছে, সব চুক্তিতেই সাধারণভাবে দুটো পক্ষ থাকে। কয়েকটি ধারা একপক্ষের খুব অনুকূলে হয়। আর কয়েকটি ধারা আরেক পক্ষের খুব অনুকূলে হয়। দুই পক্ষই চেষ্টা করে আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে এমন একটি জায়গায় পৌঁছাতে যেখানে উভয়ের জন্য একটা উইন-উইন সিচুয়েশন হয়। এই চুক্তির মধ্যে অনেক ধারা আছে যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে আমরা বাণিজ্যিক সম্পর্কটাকে আগামী দিনে জোরদার করতে পারি।

তিনি বলেন, আমি নির্দিষ্ট করে চুক্তির কথা বলিনি, আমি যেটা বলেছিলাম সেটি হলো, যে আমেরিকান উচ্চতর আদালতে টেরিফের যে ধারাটি ইমারজেন্সি পাওয়ারের যে ধারায় টেরিফ ধার্য করা হয়েছিল সেই ধারা এই ট্যারিফ ধার্য করাকে সমর্থন করে না বলার পরে পরিস্থিতিটা বিকাশমান। আমরা বিকাশমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এটি ছিল আমার কথা।

চুক্তি নিয়ে আপনার সরকারের সিদ্ধান্তটা কী এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তি তো একটা হয়েছে এখানে তো সিদ্ধান্তের কিছু নেই। এই চুক্তি তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ দুই সরকারের মধ্যে চুক্তি হয়েছে, এটা রাষ্ট্রীয় চুক্তি। সুতরাং এই চুক্তিতে যদি আপনারা কোনো কিছু খারাপ দেখেন সেটি আমাদের কাছে উত্থাপন করবেন।

তিনি আরো বলেন, কোনো চুক্তি এন্ড অব লাইফ নয়; জীবনের সর্বশেষ কিছু নয়। প্রত্যেকটা চুক্তিতে সেলফ কেয়ারিংয়ের জন্য তার নিজস্ব কিছু ধারা থাকে। সেখানে এরকম যদি আমাদের কাছে কিছু প্রতীয়মান হয় যে, এই ধারাটার সংযোজন বিয়োজন পরিবর্তন দরকার; সেখানে ফারদার নেগোসিয়েশনের স্কোপ তো সবসময় রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আমার অনুরোধ হচ্ছে, এটি নিয়ে এত উদ্বিগ্ন হবেন না। আপনারা যদি কোনো নির্দিষ্ট ধারা নিয়ে আপত্তি বা প্রশ্ন দেখেন, আমাদের কাছে উত্থাপন করবেন। আমরা বিষয়টি দেখব। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রীকে যে কনগ্র্যাচুলেশন লেটার দিয়েছিলেন ট্রাম্প সেখানে বলেছিলেন যে বাণিজ্যচুক্তি প্লাস সামরিক যে বিষয়গুলো যাতে মেনে চলে বাংলাদেশ সেই বিষয়টা এখানে আলোচনা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চুক্তির বিষয়টি আজকে আলোচনার বিষয় হিসেবে আসেনি। আর সামরিক বিষয় তো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়।

ভিসা বন্ডের আওতায় বাংলাদেশ পড়েছে, ব্যবসায়ীরা বলছেন যে তারা যেন ভিসা বন্ডের আওতায় না আসে সে বিষয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে সেটি ব্যবসায়ীদের বিষয়, হ্যাঁ কিন্তু এটি নিয়ে কাজ করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমরা তো সবসময় অনুরোধ করব যেন আমাদের ব্যবসায়ীরা- বিনিয়োগকারীরা এবং তাদের দেশের ব্যবসায়ীরা-বিনিয়োগকারীরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে সহজভাবে দুই দেশে আসা যাওয়া করতে পারে। এটির মধ্যে যেন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়।

নতুন সরকারের সাথে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করতে চায় কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, অবশ্যই নতুন সরকারের সাথে কাজ করতে চান তারা। আগামী দিনে কিভাবে আমেরিকান বিনিয়োগ এই দেশে আসবে সেটির জন্য দুই-একটা প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বৈঠকে। এগুলো দূর করলে আমেরিকান বিনিয়োগের জন্য সেটি সহজতর হবে। বাংলাদেশ একটা উর্বর ভূমি, আমাদের কিছু নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার আছে, যেগুলো দূর করা গেলে তাদের ডেভেলপমেন্ট যেটি আছে সেটি বাংলাদেশের জন্য বাংলাদেশ এলিজিবল হবে।