ঈদ সামনে রেখে হোসেনপুরে সুঁই-সুতার কারিগরদের ব্যস্ততা

Printed Edition
bangla-3
শাড়িতে পুঁথির কাজ করছেন নারী ও কিশোরীরা : নয়া দিগন্ত

জাহাঙ্গীর আলম হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)

আসন্ন রমজানের ঈদ ঘিরে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সুঁই-সুতার নারী কারিগররা। উপজেলার গ্রামেগঞ্জে এখন প্রতিটি ঘরেই চলছে পুঁথি ও রঙিন সুতায় শাড়িতে নকশা তোলার কাজ। ঈদকে সামনে রেখে বাজারে বাহারি নকশার শাড়ির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রাতদিন পরিশ্রম করছেন তারা।

সরেজমিন শাহেদল, কুড়িমারা, রহিমপুর, রামপুর, পুমদী, আশুতিয়া ও দ্বীপেশ্বর গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, অনেক বাড়িতেই নারী ও কিশোরীরা দল বেঁধে শাড়িতে নকশা তুলছেন। কেউ ফুলের ডিজাইন, কেউ পুঁথির কাজ, আবার কেউ সূক্ষ্ম কারুকাজে ব্যস্ত। অনেকেই জানান, ঈদের মৌসুমে অর্ডারের চাপ এত বেশি থাকে যে বিশ্রামের সুযোগ মেলে না।

হোসেনপুর পৌর এলাকার কারিগর আছমা খাতুন বলেন, শাড়িতে নকশার কাজ করেই তার সংসার চলে। ছেলেমেয়ের পড়ালেখার খরচও এ আয় থেকেই মেটান। ঈদ উপলক্ষে কাজের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।

শাহেদল গ্রামের জমিলা খাতুন জানান, আগে সংসারে অভাব ছিল। এই কাজ শুরু করার পর তিনি কিছুটা স্বাবলম্বী হয়েছেন। কুড়িমারা গ্রামের আনোয়ারা বেগম বলেন, স্বল্প পুঁজিতে নারীদের জন্য এটি লাভজনক পেশা। সরকারি প্রণোদনা ও প্রশিক্ষণ পেলে আরো অনেক নারী এ কাজে যুক্ত হতে পারবেন।

স্থানীয় শাড়ি ব্যবসায়ী হিরন মিয়া বলেন, ঈদ ও পূজার সময় সুঁই-সুতার নকশার শাড়ির চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই অর্ডার দেন। ফলে মৌসুমে গ্রামের কারিগরদের ব্যস্ততা বাড়ে।

হোসেনপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, এসব নারী কারিগর গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ খাত আরো বিস্তৃত হবে এবং বহু নারী স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন।