রাজধানীর ৩ জায়গা থেকে যুবকের খণ্ডিত হাত-পা উদ্ধার
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর পল্টনের বায়তুল মোকাররম মসজিদের পাশ থেকে দুইটি কাটা হাত এবং স্কাউট ভবনের পাশ থেকে একটি কাটা পা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পুলিশ নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। উদ্ধার দুই হাতের আঙুলের ছাপ নিয়ে ওই ব্যক্তির পরিচয়ে পুলিশ জানতে পেরেছে, এগুলো ওবায়দুল্লাহ (৩০) নামে এক ব্যক্তির দেহের অংশ। ভুক্তভোগীর দেহের বাকি অংশ উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
গতকাল শনিবার সকালে বায়তুল মোকাররম মসজিদের পাশ থেকে কাটা দুই হাত ও দুপুরে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে একটি পা এবং এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আরেকটি পা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, শুক্রবার রাতেই হয়তো হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল খান বলেন, বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ও উত্তর গেটের মাঝামাঝি এলাকায় রাস্তায় বিচ্ছিন্ন দুটি হাত পাওয়া যায়। এ ছাড়া স্কাউট ভবনের সামনের রাস্তা থেকে একটি বিচ্ছিন্ন পা উদ্ধার করা হয়। হাতের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে জানা যায়, ওবায়দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির দেহের অংশ এই হাত ও পা। তার বাড়ি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায়। দেহের অংশবিশেষ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। দেহের বাকি অংশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তার হাত দুটি গুলিস্তানে কীভাবে এলো এবং এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পল্টন থানার ওসি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ বলেন, বায়তুল মোকাররম ও স্টেডিয়াম এলাকার পৃথক স্থান থেকে মানবদেহের তিনটি খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই খণ্ডিত অংশের মধ্যে একটি পা, দুটি হাত। ধারণা করা হচ্ছে তিনটি খণ্ডিত অংশ একই ব্যক্তির। খণ্ডিত অংশ দেখে বোঝা যাচ্ছে, হয়তো বা এই হত্যাকাণ্ড এক দিন কি দুই দিন আগের। শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হাতের আঙুলের মাধ্যমে খণ্ডিত হওয়া ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শরীরের খণ্ডিত অংশগুলো ওবায়দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির। দেহের বাকি অংশ খোঁজ করা হচ্ছে। কে বা কারা খণ্ডিত অংশ ফেলে গেল, তাদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজে দেখা হচ্ছে।