শুরুর দিনে আকবর-আফিফের সেঞ্চুরি

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

গতকাল থেকে বগুড়া ও রাজশাহীতে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ওয়ানডে সংস্করণের খেলা। বগুড়া শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামে ইস্ট জোনের বিপক্ষে আকবর আলীর সেঞ্চুরিতে ৫৪ রানের জয় পায় নর্থ জোন এবং রাজশাহী জেলা স্টেডিয়ামে সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে আফিফ হোসেন ধ্রুবর সেঞ্চুরিতে সাত উইকেটে জয় পায় সাউথ জোন।

বগুড়ার শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামে নজর ছিল লিটন দাসের উপর। কিন্তু নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। নর্থ জোনের হয়ে ইস্ট জোনের বিপক্ষে করলেন মাত্র ১০ রান। ২৪ বলের ইনিংসে ছিল না কোনো বাউন্ডারি। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে শেষ ১৪ ইনিংসে তার ব্যাটে কোনো ফিফটি নেই। শেষ আট ইনিংসে দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছতে পারেননি। ঘরোয়া ক্রিকেটেও চলছে রান খরা।

লিটনের অনুজ্জ্বল দিনে আলো ছড়িয়েছেন আকবর আলী। দারুণ সেঞ্চুরিতে দলকে জিতিয়েছেন। ৮৭ বলে ১১১ রানের ইনিংসে ভর করে নর্থ জোন আগে ব্যাটিং করে সব ক’টি উইকেট হারিয়ে ৩৩৫ রান করে। জবাব দিতে নেমে মুমিনুলের ৮৩ রানে ইস্ট জোন ২৮১ রানের বেশি করতে পারেনি। ৫৪ রানের জয় দিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করলো নর্থ জোন। ম্যাচসেরা আকবর ৮ চার ও ৬ ছক্কায় ১১১ রানের ইনিংসটি খেলেন। নর্থ জোনের হয়ে ফিফটি করেছেন তানজিদ হাসান তামিম (৫৪) ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (৬৮)। ইস্ট জোনের হয়ে খালেদ আহমেদ ৫২ রানে চার উইকেট নেন। দু’টি করে উইকেট পান হাসান মাহমুদ ও সাইফ উদ্দিন।

সেন্ট্রাল জোন-সাউথ জোন

রাজশাহী স্টেডিয়ামে মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সাউথ জোনের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। সেন্ট্রাল জোনের হয়ে নাঈম শেখ ৭৬ বলে ৬৯ রান করেন। মাহফিজুল রবিন করেন ৭৬ বলে ৬৩ রান। এরপর দলের হাল ধরেন অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। ৭৩ বলে দু’টি চার ও তিনটি ছক্কায় ৬৭ রান করে। শেষপর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে সাত উইকেটে মধ্যাঞ্চলের সংগ্রহ ২৬৪ রান। সাউথ জোনের তানভীর ইসলাম ও সৌম্য সরকার দু’টি করে উইকেট পান। উইকেটশূন্য থাকেন মিরাজ ও মোস্তাফিজ।

সেন্ট্রাল জোনের দেয়া ২৬৫ রান তাড়ায় বেশ সাবলীল ব্যাটিং করছিলেন আফিফ হোসেন ও মোহাম্মদ মিঠুন। নব্বইয়ের ঘরে আফিফ যখন প্রবেশ করেন তখন জয় থেকে ১৪ রান দূরে সেন্ট্রাল জোন। জয়ের সাথে আফিফের সেঞ্চুরির অপেক্ষাও ছিল। মিঠুন রয়েসয়ে থাকলেন। যতটা পারলেন আফিফকে রান নেয়ার সুযোগ দিলেন। ওয়াসি সিদ্দিকীকে চার মারলে জয়ের জন্য পাঁচ রান বাকি। আফিফও তখন ৯৫ রানে। সাইফ হাসানের দ্বিতীয় বলে আফিফ এক রান নেন। পরের বল মিঠুনের এক রান। চতুর্থ বল ওয়াইড। জিততে প্রয়োজন দুই রান। সাইফের শর্ট বল পুল করে সীমানায় পাঠালেন আফিফ। ফিল্ডার নাঈম হাতের মুঠোয় থাকা সহজ বল ছেড়ে দিয়ে বল পাঠালেন সীমানায়। তাতে আফিফের সেঞ্চুরির সাথে সাউথ জোনের বড় জয়ও নিশ্চিত হয়। সাত উইকেটে জিতে সাউথ জোন। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় লিস্ট ‘এ’ শতক পাওয়া আফিফ হোসেন ম্যাচসেরা হন। ৮৬ বলে ৮ চার ও ৫ ছক্কায় খেলেছেন শতরানের ইনিংস। মিঠুন ৬৫ বলে ৭২ রান করেন সাত চার ও তিন ছক্কায়।