ইংল্যান্ডকে বাগে পেয়েও পারল না নেপাল

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

টি-২০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের মতো ক্রিকেট পরাশক্তির বিপক্ষে ম্যাচ জয়ের কাছাকাছি গিয়েও হতাশা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে নেপাল। শেষ ওভারের সমীকরণ মেলাতে পারল না দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি। ক্রিকেটের বনেদি দেশটিকে হারাতে শেষ ওভারে ১০ রানের সমীকরণ মেলাতে হতো নেপালকে। রোমাঞ্চ আর উত্তেজনার পারদ তখন তুঙ্গে। উইকেটে ছিলেন সেট ব্যাটার লোকেশ বম। ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক বল তুলে দিলেন পরীক্ষিত বোলার স্যাম কারানের হাতে। প্রথম বলে কোনো রানই দিলেন না এই বোলার। তার করা নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পরের বলে এক রানের বেশি নিতে পারেননি লোকেশ। তৃতীয় বলে এক রান নিলেন করন কেসি। চতুর্থ বলে দ্বিতীয়বার জায়গা বদল লোকেশের। এতে শেষ দুই বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন পড়ে ছয় রানের। পঞ্চম বলটি লং অনে ঠেলে এক রান নেয়ার সুযোগ থাকলেও সেট ব্যাটার লোকেশ তাতে সাড়া দেননি। আর শেষ বলে এক রানের বেশি পেলেন না তিনি। ফলে চার রানের পরাজয়ে ইতিহাস গড়া হলো না নেপালের।

কয়েক মাস আগেই টি-২০ বিশ্বকাপে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল নেপাল। এবারো তাদের সামনে ছিল দুইবারের শিরোপা জয়ী ইংল্যান্ড। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নেপালের সামনে ১৮৪ রানের বিশাল লক্ষ্য দাঁড় করায় ইংল্যান্ড। রানের পাহাড়কে তাড়া করতে নেমে অবিস্মরণীয় জয়ের আশা জাগায় তারা। কিন্তু শেষ ওভারে কারানের অসাধারণ বোলিংয়ে ১০ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেননি লোকেশ। দুই ছক্কা ও চারটি চারে ২০ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাতে ১৮০ রানেই থেমে যায় নেপাল।

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো বটেই, স্বীকৃত ক্রিকেটে নিজের অভিষেক ম্যাচে প্রথম বলেই ফিল সল্টকে ফিরিয়ে দেন শের মাল্লা। তবে ওভারটি ভালোভাবে শেষ করতে পারেননি নেপালের অফ স্পিনার। তাকে দু’টি চার ও একটি ছক্কা মারেন জ্যাকব বেথেল। ভালো শুরুর আভাস দিয়ে পাওয়ার প্লেতে ২৬ রান করে ফিরে যান জস বাটলার। সপ্তম ওভারে টম ব্যান্টনকে এলবিডব্লিউ করে দেন নেপালের সান্দিপ লামিছানে। ৫৭ রানে তিন উইকেট হারানো ইংল্যান্ডকে পথে রাখেন বেথেল ও হ্যারি ব্রুক। এরপর দিপেন্দ্রা সিং আইরির করা ১৪তম ওভারে বেথেলের বিদায়ে ভাঙে ৪৫ বলে ৭১ রানের জুটি। টিকতে পারেননি স্যাম কারানও। ১৯তম ওভারে আউট হন ব্রুকও। শেষ দিকের রানের চাহিদা পূরণ করেন উইল জ্যাকস। শেষপর্যন্ত ১৮ বলে ৩৯ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন এই ব্যাটার।

রান তাড়ায় কুশালের ব্যাটে ভালো শুরু পায় নেপাল। চতুর্থ ওভারে স্পিন আক্রমণে আসতেই ভাঙে ৩৭ রানের উদ্বোধনী জুটি। লিয়াম ডসনকে সুইপ করে শর্ট ফাইন লেগে ধরা পড়েন আসিফ শেখ। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে জ্যাকসকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন দারুণ খেলতে থাকা কুশাল। অধিনায়ক রোহিত পাউডেল ও দিপেন্দ্রার ব্যাটে লক্ষ্যের দিকে এগোতে থাকে নেপাল। ৫৪ বলে ম্যাচের সর্বোচ্চ ৮২ রানের জুটি গড়েন তারা। এক ছক্কা ও ছয়টি চারে ২৯ বলে ৪৪ রান করা দিপেন্দ্রাকে বিদায় করেন কারান। পরের ওভারেই প্রতিরোধ গড়ে ৩৯ রান করা রোহিতকে ফেরান ডসন। সেখান থেকে লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে থাকেন লোকেশ। তার একার চেষ্টায় স্মরণীয় জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে নেপাল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলকে কাক্সিক্ষত ঠিকানায় পৌঁছে দিতে পারেন তিনি। ম্যাচসেরা হন ইংলিশ ব্যাটিং অলরাউন্ডার উইল জ্যাকস।