নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৭

Printed Edition

নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণের পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাকে গাজীপুর মাওনা চৌরাস্তা থেকে এবং অপর আসামি হজরত আলীকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করা হয়। এই নিয়ে গত দুই দিনে কিশোরীর মায়ের দায়ের করা মামলায় ৯ জনের মধ্যে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গতকাল শনিবার সকালে নরসিংদীর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো: আব্দুল্লাহ-আল-ফারুক।

এ সময় পুলিশ সুপার আরো জানান, ইতোমধ্যেই এজহারে উল্লেখ করা ধর্ষণের সাথে জড়িত চারজন এবং গ্রাম্য সালিসে সহায়তাকারী তিনজনসহ সাত আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। বাকি দুই পলাতক আসামিকেও দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে। সে পাশর্^বর্তী দেশ ভারতে পালানোর পরিকল্পনাও করেছিল বলে গ্রেফতারের সময় জানিয়েছে। এ সময় নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো: কলিমুল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকারসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ দিকে শুক্রবার গ্রেফতারকৃত পাঁচ আসামিকে আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। বিজ্ঞ আদালত আজ রোববার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে সর্বশেষ গ্রেফতার হওয়া প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরা ও অপর আসামি হজরত আলীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এর আগে বুধবার রাতে কিশোরী আমিনার বাবার কাছ থেকে নূরার নেতেৃত্বে একটি চক্র তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষাক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মহিষাশুড় ইউনিয়নের কোতালিরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কবরস্থানে নামাজে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

কিশোরী হত্যা মামলার আসামি গৌরীপুরে গ্রেফতার

ময়মনসিংহ অফিস জানায়, দেশজুড়ে আলোচিত নরসিংদী জেলার মাধবদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার অন্যতম আসামি হজরত আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গত শুক্রবার রাতে গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের ছিলিমপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সালাহ উদ্দিন করিম।

পুলিশ জানায়, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে গৌরীপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় নরসিংদী ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হজরত আলী মাধবদী এলাকায় ভ্যানচালক হিসেবে কাজ করত। গার্মেন্টে চাকরির সূত্রে গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের দুই যুবকের সাথে তার পরিচয় হয়। সেই সূত্র ধরেই আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে সে গৌরীপুরে আশ্রয় নেয়।

গৌরীপুর থানার সাবইন্সপেক্টর মো: জামাল উদ্দিন জানান, গ্রেফতার এড়াতে চতুর হজরত আলী প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের সোহাগী এলাকায় তার ব্যবহৃত সিমকার্ড ফেলে রেখে আসে। পরে ছিলিমপুরের সোহাগবাজার মোড়ে চা পান করার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়।