ড্যাপের সংশোধিত গেজেট

ফার সবচেয়ে বেশি ধানমন্ডিতে সবচেয়ে কম আমিনবাজারে

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজউকের ড্যাপের সংশোধিত গেজেট প্রকাশের পর ভবনের ফ্লোর এরিয়া রেশিওতেও (এফএআর বা ফার) পরিবর্তন এসেছে। এ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ফার পাবে ধানমন্ডি এলাকার জমির মালিকরা এবং সবচেয়ে কম ফার পাবে কাউন্দিয়া ইউনিয়নের কাউন্দিয়া, আমিনবাজার এলাকার জমির মালিকরা। দেখা যাচ্ছে, যেসব এলাকা বেশ উন্নত, উঁচু ভবন রয়েছে, জমির সামনে রাস্তা রয়েছে সেখানকার জমির মালিকরা নতুন ভবন তৈরিতে বেশি ফ্লোর এরিয়া রেশিও পাবেন। আবার শুধুই ধুধু মাঠ, গ্রিন ফিল্ড, অন্য কোনো স্থাপনা নেই সেখানে ফ্লোর এরিয়া রেশিও পাওয়া যাবে সবচেয়ে কম। সংশোধিত ড্যাপে সর্বোচ্চ ফ্লোর এরিয়া রেশিওর পরিমাণ ৫, অন্য দিকে সর্বনিম্ন ফ্লোর এরিয়া রেশিও বরাদ্দ আছে মাত্র ২। সংশোধিত গেজেটে সর্বোচ্চ ৫ ফ্লোর এরিয়া রেশিও পাওয়া যাবে ধানমন্ডি এলাকায়। গেজেট অনুসারে, ফ্লোর এরিয়া রেশিও ৫ ধানমন্ডি ছাড়া আর কোনো এলাকায় দেয়া হয়নি। ধানমন্ডি এলাকাটি জনঘনত্ব ব্লক- ৫ এ অবস্থিত। এ এলাকার আবাসন ইউনিটের গড় আয়তন দুই হাজার বর্গফুট এবং এখানে প্রতিকাঠা আবাসন ইউনিট রয়েছে ১.৮টি। উল্লেখ্য, ধানমন্ডি এলাকাটি পাকিস্তান আমলে পরিকল্পিত আবাসন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল।

সর্বনিম্ন দুই ফ্লোর এরিয়া রেশিও দেয়া হয়েছে আমিনবাজারে। সংশোধিত গেজেটে ফ্লোর এরিয়ার রেশিও উল্লেখই করা হয়নি এমন একটি এলাকা রয়েছে। সেটা হলো নগরীর কল্যাণপুর রিটেনশন এলাকা। সেখানে ফ্লোর এরিয়া রেশিওর ঘরে ডাবল শূন্য লেখা হয়েছে। এটা হবে স্বতষ্ফূর্ত উন্নয়ন, এখানে রাজউক কোনো প্ল্যান দেবে না। এটা জনঘনত্ব ব্লক ৫৮’র অন্তর্ভুক্ত। রাজউক তার প্রশাসনিক এলাকাকে ৬৭টি জনঘনত্ব এলাকায় ভাগ করেছে।

ধানমন্ডির পরই সবচেয়ে বেশি ফ্লোর এরিয়া রেশিও পাবে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায়। এটা প্রতিরক্ষা অফিসারদের আবাসিক সোসাইটির অন্তর্ভুক্ত। এ এলাকার জনঘনত্ব ব্লক নং ৬১ এবং এ এলাকাটি রাজউক পরিকল্পিত এলাকা ঘোষণা করেছে। মিরপুর ডিওএইচএসে ফ্লোর এরিয়া রেশিও ঘোষণা করা হয়েছে ৪.৮। এ এলাকায় কাঠাপ্রতি আবাসন ইউনিট ১.৭ এবং আবাসন ইউনিটের গড় আয়তন দুই হাজার ৫০ বর্গফুট।

রাজধানীর উত্তরা তৃতীয় পর্ব আবাসিক এলাকায় ফ্লোর এরিয়া রেশিও ঘোষণা করা হয়েছে ৪.৭। এটাও রাজউকের একটি পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা। জনঘনত্ব ৫৫ ব্লকের অন্তর্ভুক্ত উত্তরা তৃতীয় পর্বের আবাসিক এলাকায় কাঠাপ্রতি আবাসন ইউনিট ১.৯টি। এ এলাকায় আবাসন ইউনিটের গড় আয়তন এক হাজার ৭৬০ বর্গফুট।

রাজউকের পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা কিন্তু এখনো গ্রিনফিল্ড হিসেবে খ্যাত পূর্বাচলে রাজউক ফ্লোর এরিয়া রেশিও দিয়েছে ৪.৫। এ এলাকাটির রাস্তা এবং অন্যান্য সার্ভিস খুব পরিকল্পিতভাবে সাজানো। এলাকাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে এর আদি পরিকল্পনা বাদ না দিলে এ এলাকায় কখনো যানজট হবে না। বলা হয়ে থাকে যে, ভবিষ্যতের বাংলাদেশের রাজধানী পূর্বাচলে স্থানান্তর করা হবে। এ এলাকায় কাঠাপ্রতি আবাসন ইউনিট ১.৯টি এবং আবাসন ইউনিটের গড় আয়তন এক হাজার ৭৬০ বর্গফুট। আরেকটি আবাসিক এলাকা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা। এ এলাকাটি জনঘনত্ব ব্লক-৩ এর অন্তর্ভুক্ত। এটা একটি পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা। এ এলাকার কাঠাপ্রতি আবাসন ইউনিট ২টি। অপর দিকে এ এলাকার আবাসন ইউনিটের গড় আয়তন এক হাজার ৪৮০ বর্গফুট। উত্তরা ১ম ও ২য় পর্ব এলাকার ফ্লোর এরিয়া রেশিও সাড়ে ৪, এটাও রাজউকের উন্নয়ন করা একটি পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা। এ এলাকায় কাঠাপ্রতি আবাসন ইউনিট আছে ২টি এবং আবাসন ইউনিটের গড় আয়তন এক হাজার ৬৩০ বর্গফুট। এ এলাকাটি জনঘনত্ব ব্লক-৭ এ অন্তর্ভুুক্ত।

রাজউকের সাথে ঢাকা সমিতির

মতবিনিময় অনুষ্ঠিত

পুরান ঢাকার নয়াবাজারের নওয়াব ইউসুফ মার্কেটে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো: রিয়াজুল ইসলামের সাথে ঢাকা মহানগর সমিতির (ঢাকা সমিতি) সদস্যদের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা সমিতির সভাপতি মো: ইসমাইল নওয়াব।

শুরুতে রাজউকের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে রাজউকের উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। একটি টেকসই ও বাসযোগ্য ঢাকা নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজউকের পরিকল্পনা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, আইন মানুষের প্রয়োজনের জন্যই তৈরি হয় এবং মানুষের সুবিধা ও প্রয়োজনের উদ্দেশ্যেই পরিবর্তন করা হয়। ভৌগোলিকভাবে ঢাকার মতো সুন্দর রাজধানী পৃথিবী বিরল। কিন্তু আমরা নগরবাসীরাই অপরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে এই শহরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছি। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের সন্তানেরা আমাদের একটি নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে। আমাদের সামনে সুযোগ এসেছে একটি তিলোত্তমা ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলার।

তিনি আরো বলেন, আমরা অবশ্যই আমাদের প্রয়োজনে ভবন নির্মাণ করব কিন্তু একটা অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকার জন্য প্রয়োজনীয় রাস্তাও আমাদের থাকতে হবে যেন ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো দুর্যোগে ক্ষয়-ক্ষতি কমিয়ে আনতে পারি। বাড়ি বানানোই শেষ কথা নয়, সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন একটি শহর গড়ে তুলতে হবে আমাদের। আপনারা যদি আমাদের সহযোগিতা করেন, রাজউক সবাইকে সাথে নিয়ে এই শহরকে বাসযোগ্য করে তুলবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজউকের সদস্য উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ, সদস্য পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ঢাকা সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।