৬ বিশ্বকাপে গোল করে রোনালদোর রেকর্ড

Printed Edition
khela-1
৬ বিশ্বকাপে গোল করে রোনালদোর রেকর্ড

খেলা শেষের বাঁশি। আগের ম্যাচের মতোই এই ম্যাচেও ক্যামেরা তাক করা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দিকে। ডিপিআর কঙ্গোর বিপক্ষে মুখ ভার করে মাঠ ত্যাগ করেছিলেন তিনি। আর উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পুরোপুরি ভিন্ন চেহারা সিআর সেভেনের। ক্যামেরার কাছে আসতেই তার চিৎকার দিয়ে বলা, ‘আমরা ফিরে এসেছি। আমরা ফিরে এসেছি।’ খলনায়কের পর্ব শেষ করে এবার তিনি নায়ক। গড়েছেন রেকর্ড। বল দুইবার পাঠিয়েছেন প্রতিপক্ষের জালে। টানা ছয় বিশ্বকাপেই গোল। যা আর কোনো খেলোয়াড়ের নেই। দলও জিতেছে ৫-০ গোলে। দারুণভাবে টিকে আছেন নক আউটপর্বে যাওয়ার লড়াইয়ে। তাই ম্যাচ শেষে এমন কথা তো বলবেনই তিনি। সে সাথে সমালোচকদের মুখে তালাও লাগিয়ে দিয়েছেন জোড়া গোল দিয়ে।

প্রথম ম্যাচে কঙ্গোর সাথে ১-১ গোলে ড্র হওয়া করার পর কেন নিষ্প্রভ রোনালদোকে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে রাখা হলো, এ নিয়ে কোচ রবার্তো মার্টিনেজও তোপের মুখে পড়েছিলেন। অনেকেই রোনালদো শেষ শব্দটি মুখে এনেছিলেন। সেই রোনালদোই এক ম্যাচ পর হিরো। পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ ১০ গোল করেছেন। ভেঙে দিয়েছেন ইউসেবিওর ৯ গোলের রেকর্ড।

কঙ্গোর বিপক্ষে খেলায় যখন রোনালদো গোলহীন ছিলেন, এরপর তার সামলোচনা হওয়ারই কথা। কারণ তিনি বড় আসরগুলোতে টানা ১০ ম্যাচে ছিলেন গোলহীন। একটি দলের ফরোয়ার্ড লাইনের প্রাণভোমরা যদি এভাবে একের পর এক গোল না পান, তাহলে তাকে খেলানো নিয়ে তো প্রশ্ন উঠবেই।

২০২২ সালে তিনি ঘানার বিপক্ষে গোল করলেও এরপর উরুগুয়ে, দক্ষিণ কোরিয়া, স্ইুজারলান্ড, মরক্কো, ২০২৪-এর ইউরো চ্যাম্পিনশিপে চেক রিপাবলিক, তুরস্ক, জর্জিয়া, সেøাভেনিয়া ও ফ্রান্স এবং এবারের বিশ্বকাপে কঙ্গোর বিপক্ষে গোলের দেখা পাননি। বিশ্বকাপের আগে দুই প্রস্তুতি ম্যাচেও গোল পাননি আল নাসরের এই ফরোয়ার্ড। ৬ ও ১০ জুনের এই দুই প্রস্তুতি ম্যাচের প্রতিপক্ষ ছিল চিলি ও নাইজেরিয়া।

কোচ রবার্তো মার্টিনেজ গত ম্যাচের মতো এই খেলাতেও ৯০ মিনিট মাঠে রেখেছিলেন রোনালদোকে। এর পরও সমালোচনা কোচের। প্রথম ম্যাচে বলা হয়েছিল গোল না পাওয়া রোনালদোকে কেন পুরো সময় মাঠে রাখা হয়েছে। আর উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দুই গোল করার পর বলা হলো কেন তাকে এত সময় মাঠে রাখা হলো। এই তালিকায় নাইজেরিয়ার জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার জন ওবি মিকেলও। তার মতে, ‘ম্যাচের ৬০ মিনিট বয়সেই যখন পর্তুগাল চার গোলে এগিয়ে গিয়েছিল কোচ মার্টিনেজের উচিত ছিল রোনলদোকে তুলে দেয়া। বিশ্রাম দেয়া উচিত ছিল। নিশ্চিত কোচ চেয়েছিলেন রোনালদো যেন হ্যাটট্রিক করতে পারে উজবেকদের বিপক্ষে।’

রোনালদো হ্যাটট্রিক করতে পারলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করা হতো। তবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গোল দিয়ে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়স্ক ফুটবলার হিসেবে রেকর্ডবুকে চলে গেলেন। সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে গোল করেছেন ক্যামেরুনের রজার মিলা। ৪২ বছর ৩৯ দিন বয়সে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে রাশিয়ার বিপক্ষে। রোনলাদো ৪১ বছর ১৩৮ দিন বয়সে গোল করেছেন এবার।

খেলা শেষে রোনালদো জানান, ‘সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি এই কঠোর পরিশ্রম করে জয় পাওয়ার জন্য। গত সপ্তাহটা খুবই বাজে গিয়েছিল আমাদের। অন্ধকারময় সপ্তাহ। এক সময় মনে হচ্ছিল অবসরটা নিয়েই ফেলি। পরে চিন্তা করলাম চেষ্টাটা আবার করে দেখি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে। এটা বেশ কঠিন ছিল। তবে আমরা আবার ফিরে এসেছি। এই ম্যাচে আমরা বেশ ভালো খেলেছি। আমরা হাই লাইনে খেলে সফল হয়েছি। এখন এই পর্তুগালকে আর থামানো যাবে না।’

এরপর যোগ করেন, আপনি যখন কোনো ম্যাচে জিততে পারবেন না তখন আপনি হয়ে যাবেন টার্গেট। বিশেষ করে আমি। আমি এ নিয়ে রাগ করি না। আমার ২৩ বছরের ক্যারিয়ারে এসব ঘটনা নিয়ে আমি অভ্যস্ত। জানান, সৃষ্টিকর্তা তাকেই সহায়তা করেন যারা কঠোর পরিশ্রম করে। আমরা পরিশ্রমের ফলই পেয়েছি। জানান, আমরা দল হিসেবে কিন্তু ঐক্যবদ্ধ।

এ দিকে উজবেকিস্তানের ইতালিয়ান কোচ ফাবিও ক্যানাভারো খেলা শেষে রোনালদোকে অনুরোধ করেন আরো কয়েক বছর খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য। রোনালদোর সাথে খেলার পর দেখা হলে ২০০৬ সালে ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী এই অধিনায়ক তাকে অনুরোধ করে বলেন, ‘তুমি চাইলে আরো কয়েক বছর খেলা চালিয়ে যাওয়ার যোগ্যতা রাখো। যদি তুমি এমন ফর্মে থাকো। কেন অবসরের কথা চিন্তা করছ এখন।’