মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় বিদেশী সেনা প্রত্যাহার চায় ইরান
Printed Edition
দ্য ডন
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসহ বিদেশী সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ইরান। তেহরানের জ্বালানিমন্ত্রী মহসিন পাকনেজাদ স্থিতিশীলতা এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এসব সেনা কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব বলে মত দিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের হরিয়ানার গুরুগ্রামে অনুষ্ঠিত একাদশ ব্রিকস জ্বালানিমন্ত্রীদের বৈঠকে বক্তব্যের সময় তিনি এ কথা বলেন। পাকনেজাদ বলেন, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারে ইরান সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক আগ্রাসী যুদ্ধের সময় দেশটির তেল, গ্যাস, শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল অবকাঠামোর ওপর হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী এই হামলাগুলোকে বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার বিরুদ্ধে এক অন্ধ যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এসব হামলার ফলে বিভিন্ন স্থাপনার তি হয়েছে, তেল শিল্পের কর্মীদের প্রাণহানি ও পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটেছে, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘœ সৃষ্টি হয়েছে এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখে পড়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীলতা, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসঙ্ঘের সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পাকনেজাদ ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি, বাজারের অস্থিরতা, জলবায়ুসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ এবং বিনিয়োগ সীমাবদ্ধতার প্রোপটে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বাস্তবসম্মত নীতি প্রণয়ন প্রয়োজনের ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে সব ধরনের জ্বালানি উৎস ও প্রযুক্তির অবদান রাখা জরুরি; কারণ ২০৫০ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে মেটানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মন্ত্রী সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি মূল্যÑ শৃঙ্খলজুড়ে সমতা, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ল্েয একটি ‘ব্রিকস জ্বালানি নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব’ গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেন।
ইরানের সাথে আলোচনায় উপসাগরীয় মিত্রদের স্বার্থ রার আশ্বাস রুবিওর
এদিকে এএফপি জানায়, ইরানের সাথে চলমান আলোচনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন। তবে এ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর স্বার্থ ও নিরাপত্তা সম্পূর্ণ সুরতি থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। আঞ্চলিক দেশগুলোকে এই বিষয়ে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সঙ্ঘাত চলার সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলো বারবার তেহরানের পেণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ল্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। এর পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে দেয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রফতানি কার্যত পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে মিত্রদের উদ্বেগ দূর করতে বর্তমানে ওই অঞ্চল সফরে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কুয়েত সিটিতে সফরকালে রুবিও স্পষ্ট করে বলেন, সঙ্ঘাতের স্থায়ী সমাধানের ল্েয ইরানের সাথে আলোচনার প্রতিটি পদেেপ ওয়াশিংটন উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে একাত্ম থাকবে। তিনি বলেন, আমরা উপসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের অংশীদারদের সাথে সম্পূর্ণভাবে একজোট থাকব। এই আলোচনার বিষয়ে নেয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা তাদের সাথে পরামর্শ ও আলোচনা করব।