মিসরের সামরিক সমতা বৃদ্ধি নিয়ে ইসরাইলের নতুন উদ্বেগ

Printed Edition

মিডল ইস্ট মনিটর

মিসরের ক্রমবর্ধমান সামরিক সমতা বৃদ্ধি এবং সিনাই উপদ্বীপে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার পদপেগুলো নতুন করে ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রধান আলোচনায় উঠে এসেছে। কায়রোর এই সমরাস্ত্র আধুনিকায়নের জেরে ইসরাইলের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘নিউজ-১’ তাদের একটি খবরে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছে, তেল আবিবের নীতিনির্ধারকরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিসরীয় সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সার্বিক উন্নয়ন কর্মসূচি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেণ করছেন। ইসরাইলের কিছু নিরাপত্তা মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, মিসরের বর্তমান সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় এবং বিশেষ প্রশিণ কার্যক্রমের যে পরিসর, তা দেশটির পশ্চিম ও দণি সীমান্তের প্রচলিত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলার প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। আর এই কারণেই ইসরাইলি মহলে নতুন প্রশ্ন উঠেছে যে, এই বিপুল সমতা বৃদ্ধির পেছনে মিসরের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ল্য আসলে কী।

খবরে আরো উল্লেখ করা হয়, গাজা উপত্যকায় ইসরাইল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে এবং আঞ্চলিক সঙ্ঘাতের বিস্তার ঘটায় ইসরাইলের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সিনাই উপদ্বীপে মিসরের সামরিক তৎপরতা আরো নিবিড়ভাবে পর্যবেণ করছে। একই সাথে সেখানে অবকাঠামো উন্নয়ন, লজিস্টিক সমতা বৃদ্ধি এবং সামরিক কাঠামো শক্তিশালী করার প্রচেষ্টাও এখন ইসরাইলের কঠোর নজরদারির মধ্যে রয়েছে। নিজেদের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় যেকোনো ধরনের সামরিক পরিবর্তনের বিষয়টিকে ইসরাইল অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে বিবেচনা করে। বিশেষ করে সিনাই উপদ্বীপের েেত্র এই সংবেদনশীলতা আরো অনেক বেশি, কারণ অঞ্চলটি ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক মিসর-ইসরাইল শান্তিচুক্তির আওতায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত।

তবে এটিও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওই অঞ্চলটিতে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের ল্েয কায়রো ও তেল আবিবের মধ্যে একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা সমন্বয় ও যোগাযোগ বজায় রয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দ্রুত পরিবর্তিত নিরাপত্তা বাস্তবতার মধ্যেই এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলো। বর্তমান পরিস্থিতিতে অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ নিজেদের প্রতিরা কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করছে এবং নতুন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য হুমকির মোকাবেলায় সামরিক সমতা আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিচ্ছে।