‘ইহুদি সন্ত্রাসবাদ’ প্রশ্রয়ের অভিযোগ
নেতানিয়াহু সরকারকে ইসরাইলের সাবেক শীর্ষ নেতাদের চরম হুঁশিয়ারি
Printed Edition
দ্য গার্ডিয়ান
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ‘ইহুদি সন্ত্রাসবাদ’ ও ফিলিস্তিনিদের ‘জাতিগত নির্মূলের আদর্শ’কে মদদ দেয়ার অভিযোগে ইসরাইল সরকারের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন দেশটির সাবেক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, নোবেলজয়ী ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক চাঞ্চল্যকর চিঠি থেকে এই তথ্য সামনে এসেছে।
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে চলা হত্যা, যৌন নিপীড়ন, চুরি, অগ্নিসংযোগ ও লাশ অবমাননার মতো সহিংস ঘটনার একটি দীর্ঘ তালিকা দিয়ে একে ‘চূড়ান্ত সতর্কবার্তামূলক’ চিঠি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ প্রতিরা ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো এই গোপন চিঠিতে স্বার করেছেন ইসরাইলের দু’জন সাবেক প্রধানমন্ত্রী (এহুদ ওলমার্ট ও এহুদ বারাক), চারজন সাবেক প্রতিরা ও বিচারমন্ত্রী এবং মোসাদ, শিন বেত ও পুলিশের সাবেক প্রধানসহ ৩০ জনেরও বেশি সাবেক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। এ ছাড়া রসায়নে নোবেলজয়ী ডেভিড কর্নবার্গ, খ্যাতনামা ঔপন্যাসিক ডেভিড গ্রসম্যানসহ দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননাপ্রাপ্ত ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং আইন ও শিাজগতের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা এতে সই করেছেন।
আইনজীবী শমুয়েল বারকোভিটজের খসড়া করা এই চিঠিতে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার কট্টর ডানপন্থী জোটসঙ্গীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালাতে উসকে দিচ্ছেন। এর মূল ল্য হলো ভূখণ্ড সংযুক্তিকরণ ও জাতিগত নির্মূলের চরমপন্থী রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা। স্বারকারীদের দাবি, এটি কেবল সেনাবাহিনী বা পুলিশের ব্যর্থতা নয়; বরং সরকারের প্রকাশ্য নীতিরই অংশ। তারা শিন বেত ও পুলিশকে এই ইহুদি অপরাধীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে দেয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। চিঠিতে এই অপরাধের ধরনকে ১৯ ও ২০ শতকে পূর্ব ইউরোপে ইহুদিদের ওপর হওয়া ঐতিহাসিক হামলার (পোগ্রাম) সাথে তুলনা করা হয়েছে। চিঠিতে ইসরাইলি প্রতিরা বাহিনীর তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহযোগী ভূমিকা পালন করছে এবং বহু ঘটনায় আঞ্চলিক প্রতিরা ইউনিট ও বসতি এলাকার নিরাপত্তা দলের সদস্যরা সরাসরি সহিংসতায় অংশ নিচ্ছে। পশ্চিম তীরের কমান্ডার জেনারেল আভি ব্লুথকে উদ্দেশ্য করে চিঠিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, ইহুদি সন্ত্রাসীদের নেতা কারা এবং তারা কোথায় থাকে তা জানা সত্ত্বেও কেন তাদের নির্মূল করা হচ্ছে না? জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, ২০২০ সাল থেকে ইসরাইলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত এক হাজার ১০০ ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে, যার এক-চতুর্থাংশই শিশু। অথচ এখন পর্যন্ত একটি ঘটনার জন্যও কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি।
নেতানিয়াহুর অতীতে দেয়া এক বক্তব্যÑ‘বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা কিছু কিশোরের কাজ’Ñএকে বাস্তবতাহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে চিঠিটি। এতে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে যে, এই চরম সহিংসতা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি ইসরাইলকে বিশ্বজুড়ে বিচ্ছিন্ন করছে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতিশোধমূলক নতুন গণ-অভ্যুত্থান বা ইনতিফাদার ঝুঁঁকি বাড়িয়ে দেশের নিরাপত্তাকেই বিপন্ন করছে।