পাকিস্তান সেনাপ্রধানকে হত্যা পরিকল্পনা করেছিল মোসাদ

Printed Edition

পাকিস্তান অবজারভার

ব্রাজিলিয়ান রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক পেপে এসকোবার এক সাাৎকারে দাবি করেছেন, সুইজারল্যান্ড সফরকালে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে হত্যার একটি গোপন ছক কষা হয়েছিল, যা পরে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দারা নস্যাৎ করে দেন। এসকোবারের অভিযোগ, এই হত্যা পরিকল্পনার পেছনে ছিল ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। এমনকি পাকিস্তান এর জবাবে চরম হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল যে, তাদের ওপর কোনো হামলা হলে এর ফল ভালো হবে না।

যদিও এই চাঞ্চল্যকর দাবিকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট, কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন’ বলে জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তানের একটি উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা সূত্র। সরকারি কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সুইজারল্যান্ড অবস্থানকালে সেখানে স্থানীয় বা মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প থেকে কোনো ধরনের হুমকি বা অস্বাভাবিক সতর্কবার্তা ছিল না। সরকারিভাবে এই দাবি উড়িয়ে দেয়া হলেও আন্তর্জাতিক মহল পুরো বিষয়টিকে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখছে। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এক দিকে দেশটি আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সেতু হিসেবে কাজ করছে, অন্য দিকে ইরান ও মার্কিন পদেেপর পাশাপাশি ইসরাইলের প্রকাশ্য সমালোচনাও করে যাচ্ছে।

সূত্রমতে, পাকিস্তানের এই পর্দার আড়ালের কূটনীতির মূল ল্য হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো। একই সাথে নিজেদের পুরনো মিত্র সৌদি আরবের সাথে প্রতিরা সহযোগিতা বজায় রেখে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। মধ্যপ্রাচ্যের এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে নিজেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে প্রমাণ করার বড় সুযোগ পেয়েছে পাকিস্তান। তবে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে কেন্দ্র করে ওঠা এই হত্যাচেষ্টার গুঞ্জন প্রমাণ করে, পর্দার পেছনের এই কূটনৈতিক তৎপরতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ও গভীর নজরদারির মধ্যে রয়েছে।