লেবাননে ইসরাইলের বিমান হামলা ফসফরাস শেল নিক্ষেপ
Printed Edition
আলজাজিরা
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর ব্যাপক বিমান হামলা, ভারী কামানের গোলা এবং নিষিদ্ধ ফসফরাস শেল নিক্ষেপের ফলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, এই হামলায় বাজুরিয়েহ, নাবাতিয়েহ আল ফাউকা, সির আল ঘারবিয়েহ এবং চৌকাইন শহরে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বিশেষ করে বিনতে জবেইল শহরটি দীর্ঘ সময় ধরে ইসরাইলি বাহিনীর অবিরাম আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
টায়ার জেলার বিভিন্ন অংশেও আক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এনএনএ-র তথ্যমতে, মাজদাল জুন এবং বাইত আল-সাইয়াদ শহরে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া আল-হানিয়া, আল-কালিলাহ, আল-মানসুরি এবং বেইত আল-সাইয়াদ শহরগুলোতে ভারী কামানের গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। টায়ার জেলার জিবকিন শহরে ইসরাইলি বাহিনী কামানের গোলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত ফসফরাস শেল ব্যবহার করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে ওই অঞ্চলের সিদ্দিকিন শহরে যুদ্ধবিমান থেকে শক্তিশালী বোমা হামলা চালানো হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তসংলগ্ন জনপদগুলোতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এই বহুমুখী আক্রমণ দেশটির মানবিক সঙ্কটকে আরো ঘনীভূত করে তুলেছে। আমজনতার নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে।
লেবাননের জ্বলন্ত অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আসতে পারে না : ইইউ
সিএনএন জানায়, লেবানন জ্বলন্ত অবস্থায় থাকলে মধ্যপ্রাচ্য বা পারস্য উপসাগরে কোনো স্থিতিশীলতা আসতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন। গতকাল সোমবার একটি সংবাদ সম্মেলনে ইইউ প্রধান বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহের একটি মূল শিক্ষা হলো- নিরাপত্তা অবিচ্ছেদ্য। লেবানন যখন জ্বলছে, তখন আপনি মধ্যপ্রাচ্য বা উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আশা করতে পারেন না। তাই আমরা সব পক্ষকে লেবাননের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করার এবং শত্রুতা সম্পূর্ণ অবসানের আহ্বান জানাচ্ছি।’ গত সপ্তাহান্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতা করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার’ জন্য ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই প্রধান সতর্ক করে দেন, লেবাননে অব্যাহত হামলা ‘পুরো প্রক্রিয়াটিকে লাইনচ্যুত করার হুমকি দিচ্ছে।’
যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফন ডার লেয়েন বলেন, হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল। ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবাননে ইসরাইলি বাহিনী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।