ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দায় প্রকাশ্য দিবালোকে একটি কম্পিউটারের দোকানে ঢুকে মো: রাব্বী (২৭) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

নিহত রাব্বী নগরীর মাসকান্দা হাইস্কুল রোড এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি পলিটেকনিক কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে একটি কম্পিউটারের দোকান পরিচালনা করতেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাব্বী পাসপোর্ট অফিসের সামনে নিজের দোকানের আশপাশে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি হঠাৎ তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে রাব্বী দৌড়ে দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়েন। কিন্তু হামলাকারীরাও তার পিছু নিয়ে দোকানে প্রবেশ করে।

পরে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাব্বীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দোকানের ভেতরে ফেলে রেখে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত রাব্বীকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পাসপোর্ট অফিস ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত রাব্বীর প্রতিবেশী সাব্বিরের পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জেরেই রাব্বীকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

ওসি বলেন, হত্যাকাণ্ডে সাব্বির ও তার ভাইয়ের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদেরসহ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে পাসপোর্ট অফিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানের সামনে প্রকাশ্যে একটি দোকানে ঢুকে যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সাথে আরো কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।