ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজলকে বাংলাদেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার (২৫ মার্চ) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৬৪(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নিয়োগ প্রদান করেছেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান পদত্যাগ করার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদটি শূন্য ছিল। আসাদুজ্জামান জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে পদত্যাগ করেছিলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আসাদুজ্জামান। বিএনপির সরকারে তিনি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

এর মধ্যে গত ১ জানুয়ারি থেকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আরশাদুর রউফ ভারপ্রাপ্ত হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

নিয়োগ পাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ব্যারিস্টার কাজল তার কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রচলিত আইন, নৈতিকতা ও উচ্চতর আদর্শ মেনে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করব।’ মামলার জট নিরসন করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, বিচার বিভাগে মামলার জট কমাতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত সরকারি নীতিমালা প্রণয়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রে একজনের অপরাধে বহু মানুষকে আসামি করা এবং ছোটখাটো দেওয়ানি বিরোধ আদালতে আসার ফলে জট বাড়ছে। এসব নিরসনে বিচারক সঙ্কট দূর করা এবং আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের ওপরও তিনি জোর দেন।

এদিন বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে অ্যাটর্নি জেনারেল তার নিজ কার্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি কিছু প্রয়োজনীয় নথিতে স্বাক্ষর করেন। শেষে তিনি শুকরিয়া আদায় করে নিজেই দোয়া ও মুনাজাত পরিচলানা করেন।

রুহুল কুদ্দুস বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হয়ে এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

রুহুল কুদ্দুস ১৯৯৫ সালে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী হিসেবে আইন পেশা শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি। ২০২৩ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হন।

রুহুল কুদ্দুস বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ২০০৩ থেকে ২০০৬ মেয়াদে কর্মরত ছিলেন।

ছাত্রজীবনে সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত ছিলেন রুহুল কুদ্দুস। তিনি ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স), ১৯৯৪ সালে এলএলএম করেন। ২০০৫ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৬ সালে লন্ডনের সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে বার ভোকেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন। ২০০৬ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার অ্যাট ল সনদ অর্জন করেন।