ফাইনালের মিশনে ইংল্যান্ড-ভারত
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
টি-২০ বিশ্বকাপ এসে পৌঁছেছে শেষ বাঁকে। গ্রুপ পর্ব ও দ্বিতীয় ধাপের হিসাব-নিকাশ শেষে এখন শিরোপার লড়াই সীমাবদ্ধ মাত্র চার দলে। আর এখানে ভুলের কোনো সুযোগ নেই- একটি হার মানেই বিদায়। স্নায়ুচাপ, কৌশল আর অভিজ্ঞতার পরীক্ষায় টিকে থাকতে পারলেই মিলবে ফাইনালের টিকিট। আজ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়বে ইংল্যান্ড ও ভারত। শক্তিতে কাছাকাছি এই দুই দলের ম্যাচ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহও বেশি। স্বাগতিক হওয়ায় ভারতের জন্য এটি ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় সুযোগ।
ভারত-ইংল্যান্ড লড়াই নিয়ে আলোচনাটা একটু বেশিই। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, এশিয়ার পরাশক্তি বা আয়োজক হিসেবে সেটাই স্বাভাবিক। এবারের বিশ্বকাপে হট ফেবারিট মনে করা হচ্ছে সূর্যকুমার যাদবের দলকে। সব কিছু হিসেব করে ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে ইংল্যান্ডও আছে সতর্ক অবস্থানে। তবে ফাইনালেই চোখ তাদের। স্বাগতিক দর্শকদের চুপ করিয়ে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের টিকিট কাটার অপেক্ষায় ইংলিশদের অলরাউন্ডার স্যাম কারান।
চলতি ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপে ভারত ও ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স প্রায় একই মুদ্রার এপিঠ ও ওপিঠ। দুটো দলই এখন পর্যন্ত সাতটি করে ম্যাচ খেলেছে। আর উভয় দলই মাত্র একটি করে ম্যাচ হেরেছে। টিম ইন্ডিয়া গ্রুপ পর্বে শীর্ষস্থান দখল করেছিল, অন্য দিকে ইংল্যান্ড সুপার-৮ পর্বে নিজেদের গ্রুপে শীর্ষে ছিল। বর্তমানে দুই দলই সমান-সমান মনে হলেও অতীত পরিসংখ্যান কিন্তু ভারতকেই এগিয়ে রাখছে।
চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন জ্যাকস। সাত ম্যাচে এক ফিফটিতে তার সংগ্রহ ১৯১ রান। সুপার এইটের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলে ইংল্যান্ডের জয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এ ছাড়া বল হাতে নিয়েছেন ৭ উইকেট। সাত ম্যাচে চারবার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন জ্যাকস। এমন ফর্মে থাকা একজন ক্রিকেটার প্রতিপক্ষের জন্য কতটা হুমকি হতে পারেন সেটা ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন গাভাস্কার। তাই ইংলিশদের ব্যাটিং অলরাউন্ডার উইল জ্যাকসকে নিয়ে ভারতীয় দলকে সতর্ক করে দিয়েছেন ভারতীয় কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনিল গাভাস্কার। ‘স্যামসন, সূর্যকুমার বা হার্দিক পান্ডিয়া তাকে কিভাবে সামলাবেন সেটাই এখন আসল কথা। সাত নম্বরে তাঁর মতো একজন থাকা মানে দলের জন্য বড় সুবিধা। যেমন শিবম দুবে ভারতের জন্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচটির মতোই এটি হবে একটি ‘ক্র্যাকার’ ম্যাচ। দুই দলেই ব্যাটিং, বোলিং, মিডল অর্ডার, ফিনিশার, বৈচিত্র্য ও অভিজ্ঞতা আছে।’
ভারতীয় দর্শকদের চুপ করাতে চায় ইংল্যান্ড
অস্ট্রেলিয়ার অনুষ্ঠিত ২০২২ টি-২০ বিশ্বকাপ জেতে ইংল্যান্ড। সেবার সেমিফাইনালে ভারতকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে ফাইনালে পা রেখেছিল তারা; জিতেছিল ১০ উইকেট। সে ম্যাচ থেকে প্রেরণা খুঁজছেন অধিনায়ক স্যাম কারান। সেই সঙ্গে গ্যালারিতে ভারতীয় দর্শকদের উন্মাদনাকে চাপ হিসেবে না নিয়ে বরং উপভোগ করতে চান তিনি।
কারানের কথায়, ‘ভারতীয় দর্শক যে আবহ তৈরি করবে সেটা মোকাবেলা করার জন্য আমরা প্রস্তুত। এ জন্য খেলোয়াড় হিসেবে আপনি আরও বেশি শিহরণ অনুভব করবেন। এমন স্টেডিয়াম ও চিৎকারের মধ্যে খেলা দারুণ একটি ব্যাপার। ভারতের দর্শকদের চুপ রাখার মতো কাজ আমাদের করতে হবে।’
সব বিভাগেই দারুণ ক্রিকেট খেলার বার্তা দিলেন কারান, ‘সবাই বলছে, ইংল্যান্ড কবে নিখুঁত ম্যাচ খেলবে। সত্যি বলতে, আমরা নিখুঁত ম্যাচ খেলি বা না, সেটাকে আমি গুরুত্ব দিচ্ছি না। আমি স্রেফ জিততে চাই এবং আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে যেতে চাই। ম্যাচের চাপ শিশির আছে নাকি নেই সেই ভাবনায় যেতে চাই না। আগে বোলিং করলে আশা করি দারুণ করব। আগে ব্যাট করলেও বড় সংগ্রহ গড়তে পারব।’
আগের একাদশেই আস্থা ভারতের
অতিরিক্ত রদবদল সবসময় ভালো সমাধান নয়। মাঝেমধ্যে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে কিছু রদবদল শাপমোচন হয় আবার অভিশাপও হয়। স্কিলগুলোর সঠিক ব্যবহারের জন্যই মাঝে মধ্যে বারবার সুযোগ দেয়া হয়। ভারতীয় দলে ওপেনার অভিষেক শর্মাও এই অবস্থার মাঝ দিয়ে যেতে হয়েছে। চার ম্যাচে অস্বস্তির পর সুপার এইটে ত্রাতা হয়ে আবির্ভাব হলেন।
অধিনায়ক সূর্যকুমারের ভাষ্য, ‘এ ধরনের পরিবেশে, যখন কেউ টানা চাপের মধ্যে থাকে এবং প্রত্যাশিত ফল মেলে না। অনুশীলনের ধরন ঘুরিয়ে ফেলা যায়, যেমন একটু আধটু বোলিং করা, ফিল্ডিং সেরে নেয়া, কিন্তু ব্যাটিং না করা, যাতে নেটে ব্যাট হাতে ফেরার তাড়না ক্রমে তীব্র হয়। আমার মনে হয়, সেমিফাইনালের জন্য কিছু জমিয়ে রেখেছে আভিষেক।’
অথচ তাকে ম্যাচে একাদশেই না রাখা হয়! এমন ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না রবি শাস্ত্রি। সাঞ্জু স্যামসনের সাথে ইশান কিষানকে ওপেন করিয়ে ফিনিশার রিঙ্কু সিংকে দলে আনার সুযোগ দেখছেন এই ধারাভাষ্যকার। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পারফরম্যান্সের কারণেই তার চাওয়া, আভিষেককেই রেখে দেয়া হোক দলে। ‘একটি পরিবর্তন আনার সুযোগ আছে ভারতীয় দলে, সেটি হলো ইশান কিষানকে ওপেনিংয়ে তুলে আনা ও নিচের দিকে রিঙ্কু সিংকে দলে আনা। একমাত্র পরিবর্তন এটিই হতে পারে। তবে আমি আভিষেকের ওপরই আস্থা রাখব। কারণ সে আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গতিময় সেঞ্চুরি করেছে।’
ভারত ও ইংল্যান্ডের টি-২০তে ২৯টির মধ্যে ১৭টি জিতেছে ভারত, ১২টি ইংল্যান্ড। টি-২০ বিশ্বকাপ ভারত জিতেছে ৩, ইংল্যান্ড দু’টি। ২০২২ সালে ইংল্যান্ড জিতলেও, ২০২৪ সালে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেয় ভারত।