আমেরিকার স্বর্ণযুগ শুরুর দাবি ট্রাম্পের
স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ
Printed Edition
আলজাজিরা, রয়টার্স ও বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দেশটি নতুন এক ‘স্বর্ণযুগে’ প্রবেশ করেছে। মার্কিন কংগ্রেসের ‘নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’-এ দেয়া স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার এক বছরের অর্জনকে ‘এক যুগের সেরা পরিবর্তন’ হিসেবে দাবি করেছেন। সীমান্ত নিরাপত্তা, অর্থনীতির চাঙ্গা অবস্থা এবং অপরাধ দমনসহ অন্যান্য সাফল্য তুলে ধরে তিনি ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ‘স্বর্ণযুগ’ শুরু হয়েছে।
ভাষণের শুরুতে ট্রাম্প বলেন, আমাদের জাতি আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে; আগের চেয়ে বড়, আরো ভালো, আরো সমৃদ্ধ এবং যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। নির্বাচনী প্রচারণার পরিচিত এই বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে তিনি আরো বলেন, আমেরিকার ‘স্বর্ণযুগ’ শুরু হয়েছে। আজ আমাদের সীমান্ত সুরক্ষিত, মনোবল ফিরে এসেছে। মুদ্রাস্ফীতি দ্রুত কমছে এবং মানুষের আয় বাড়ছে। মার্কিন অর্থনীতি আগের চেয়ে শক্তিশালী, আর আমাদের শত্রুরা এখন আমাদের ভয় পায়।
চলতি বছরের শেষ দিকে উদ্যাপিত হতে যাওয়া দেশের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে উল্লেখ করে ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্সিকে ‘যুগান্তকারী পরিবর্তন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এটি তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ। প্রথা অনুযায়ী, তিনি মার্কিন কংগ্রেসের সিনেট এবং হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন।
দীর্ঘ ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, অভিবাসন নীতি ও ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধিসহ নানা বিষয়ে আলোকপাত করছেন। ট্রাম্প যখন ভাষণ শুরু করেন, তখন তার সমর্থকেরা ‘ইউএসএ’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এটি দেশটির ইতিহাসে কংগ্রেসে কোনো প্রেসিডেন্টের দেয়া দীর্ঘতম ভাষণের রেকর্ড গড়েছে। এর আগে ২০০০ সালে মার্কিন কংগ্রেসে দীর্ঘতম ‘স্টেট অব ইউনিয়ন’ ভাষণ দিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। এবার ট্রাম্প তাকে ছাড়িয়ে গেলেন।
ভাষণে ট্রাম্প বারবার তার অর্থনৈতিক কর্মসূচির কথা তুলে ধরেছেন। বলেছেন, হোয়াইট হাউজে ফেরার পর প্রথম বছরে তিনি ‘কয়েক যুগের ব্যর্থতা’ থেকে অর্থনীতিকে ‘অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে বদলে দেয়ার’ বিষয়টি তদারক করেছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে আসার প্রথম বছরে ট্রাম্প পররাষ্ট্র নীতির ওপর ব্যাপকভাবে মনোনিবেশ করলেও ভাষণে আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে শুধু সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছেন।
ইরানের সাথে যে সঙ্ঘাত আসন্ন বলে মনে হচ্ছে তা নিয়ে ভাষণের প্রায় ৯০ মিনিট পর্যন্ত তিনি কোনো কথা বলেননি। এরপর জানান, ইরানের সাথে সমস্যাটি ‘কূটনৈতিকভাবে সমাধান করতেই পছন্দ করবেন’ তিনি; কিন্তু তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি জানান।
তিনি দর্শকদের মধ্যে থাকা ডেমোক্র্যাটদের সাথে বারবার তর্কে জড়িয়েছেন, কিন্তু হাউজে উপস্থিত সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকদের তাদের সাম্প্রতিক শুল্কবিষয়ক রায়ের জন্য সরাসরি কোনো অনুযোগ করেননি। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে ভার্জিনিয়ার গভর্নর অ্যাবিগেল স্পেনবার্গার ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাব দেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোর ‘কোনো বাস্তব সামধান নির্দেশ করেননি’।
এমন এক সময় ট্রাম্প তার ‘স্টেট অব ইউনিয়ন’ ভাষণটি দিলেন যখন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের জরিপগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে যে তার এবারের মেয়াদের কর্মসূচিগুলো নিয়ে আমেরিকান ভোটাররা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। ভাষণের প্রায় পুরো সময়জুড়ে ট্রাম্প তার লিখিত বক্তব্য অনুসরণ করে গেছেন, যা তার জন্য অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি ভাষণ দেয়ার সময় মূল বিষয় থেকে সরে গিয়ে অপ্রাসঙ্গিক বা ভিন্ন কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে অভ্যস্ত। তিনি সাধারণত প্রস্তুত করা বক্তব্য থেকে সরে যান। কিন্তু এবার তিনি লিখিত মূল বক্তব্যের ওপরই নির্ভর করে সেগুলো সুগঠিতভাবে উপস্থাপন করেছেন।