ভয়ভীতি উপেক্ষা করেই ভোটকেন্দ্রে যাবেন নারীরা

দেশের বিভিন্ন স্থানে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নিজের ভোট প্রয়োগ করতে বদ্ধপরিকর নারী ভোটাররা। তারা বলছেন, ভয়কে জয় করে আমরা এবার ভোটকেন্দ্রে যাবো এবং মূল্যবান ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা আমাদের পছন্দের প্রতিনিধি বেছে নেবো। এসব নারী ভোটার সুষ্ঠু ভোটের বিষয় আশাবাদী হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা সহিংসতায় শঙ্কা প্রকাশ করছেন। সুষ্ঠু ভোটের জন্য সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার পাশাপাশি সহিংসতা সৃষ্টির সাথে জড়িত প্রার্থীদের বর্জনেরও ঘোষণা দেন তারা।

এবারের নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোর চেয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও ভোটের আগের দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে সঙ্ঘাত ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা ঘটেছে।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের দড়িকান্দি এলাকায় এক প্রবাসীর বৃদ্ধ বাবার কাছে ২০ হাজার টাকা পাওয়ায় তাকে জামায়াত ট্যাগ দিয়ে মারধর ও লাঞ্ছিত করে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের সমর্থকরা। পরে ওই ব্যক্তিকে পুলিশ উদ্ধার করেছে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেয়। উপজেলাটির একই ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় এক জামায়াত কর্মী কাউসারসহ তার বাবা ও ভাইকে মারধর ও অমানবিক নির্যাতন করে বিএনপি নেতা মোহন ও মাসুম বিল্লাহ।

এ দিকে গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা-১৬ আসনের জামায়াত প্রার্থী কর্নেল (অব:) আব্দুল বাতেনের সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় জামায়াতে ইসলামীর হাসান শেখ, কামাল হোসেন ও আফজাল হোসেন নামে জামায়াতের তিনকর্মী গুরুতর আহত হন।

বরগুনা-২ সংসদীয় আসনের নারী ভোটার নাসরিন সুলতানা নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ভোটার হয়েছি। ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা হয় বলে এখনো পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে ভোট দেয়া হয়নি। এবার নির্বাচনের ছুটিতে ভোট দিতে গ্রামে যাচ্ছি। ইনশা আল্লাহ এবার অবশ্যই ভোট দেবো।

কোন দলের প্রার্থীকে সমর্থন করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে নাসরিন সুলতানা বলেন, আমি প্রতীক দেখে ভোট দেবো না। গ্রামে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে যে প্রার্থীকে ভদ্র ও ক্লিন ইমেজের মনে হবে তাকেই ভোট দেবো। সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ লালন-পালন করে এ রকম কোনো প্রার্থীকে ভোট দেবো না।

ঝালকাঠি-১ আসনের নারী ভোটার মোহসিনা রুদ্্েরর সাথে কথা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। এবারই প্রথম ভোট দেবো। এলাকার উন্নয়নের চেয়ে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা বিনির্মাণে যাকে কার্যকর ব্যক্তি মনে হবে তাকেই ভোট দেবো।

মাগুরা-১ আসনের নারী ভোটার বিপ্লবী সুলতানা অশ্রু নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা রাজনৈতিক সহিংসতা মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই। রাস্তাঘাটে নিরাপদে চলতে চাই। নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ হোক সেটাই চাই। এই বিষয়গুলোতে যে দল আমাকে আশ্বস্ত করতে পেরেছে তাকেই ভোট দেবো।

উল্লেখ্য, ২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে দেশের রাজনীতি ও মানুষের চিন্তা চেতনায় পরিবর্তন আসে। সেই প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদের ভোটগ্রহণ হচ্ছে আজ। এই নির্বাচন নিয়ে নারী ভোটারসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে অনেক আশা-আকাক্সক্ষার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ভোট বিমুখ মানুষ ভোটের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। এখন দেখার বিষয় সরকার তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কতটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হয়।