মিডল্যান্ড ব্যাংকের শেয়ার কারসাজিতে জরিমানা
সপ্তাহের শেষদিনে পুঁজিবাজারে সূচকের ফের উন্নতি
Printed Edition
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে এসে পুঁজিবাজারের সূচক আবারও উন্নতি লাভ করেছে। এ দিন দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসই আগের দিনের হারানো সূচকের পুরোটা ফিরে পায়। অপর পুঁজিবাজার সিএসইয়েও সব সূচকে কমবেশি উন্নতি দেখা যায়। লেনদেনের এক পর্যায়ে বড় ধরনের বিক্রয়চাপ তৈরি হলেও শেষদিকে বাজার তা সামলে নেয়। দিনশেষে উভয় বাজারই সূচকের ইতিবাচক অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বৃহস্পতিবার ২১ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯৬৩ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সকাল ৪ হাজার ৯৪১ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করলেও সূচকটি শুরুতেই ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ৪ হাজার ৯৬০ পয়েন্ট অতিক্রম করে। তবে কিছুক্ষণ পর বাজার বিক্রয়চাপে পড়ে এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা এ চাপ অব্যাহত থাকে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সূচক নেমে আসে ৪ হাজার ৯৩৩ পয়েন্টে। এর পর বাজার ঘুরে দাঁড়ালে বেলা ২টার দিকে সূচক ওঠে ৪ হাজার ৯৭০ পয়েন্টে। দিনের শেষে তা স্থির হয় ৪ হাজার ৯৬৩ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে।
একই সময়ে ডিএসইর বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ যথাক্রমে ৪ দশমিক ১৯ এবং ২ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট বেড়ে শেষ হয়।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২০ দশমিক ০৩ পয়েন্ট বেড়েছে। সিএসই-৩০ এবং সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় যথাক্রমে ১৫ দশমিক ৪৮ ও ১২ দশমিক ০৩ পয়েন্ট।
এক দিন বিরতির পর পুঁজিবাজারের ফের ঘুরে দাঁড়ানোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বছরের শেষ সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নিজেদের আর্থিক বছরের (ডিসেম্বর) অবস্থান মজবুত রাখতে বিনিয়োগ ধরে রাখেন বা বাড়ান। এ সময় তারা মুনাফা তোলা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেন। সাধারণ বিনিয়োগকারীদেরও এ সুযোগ কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ডিসেম্বরের শেষদিকে আবারো বিক্রয়চাপ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
এ দিকে মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসির শেয়ারদর কারসাজির অভিযোগে দুই ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন বিভাগ ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে।
বিএসইসির তথ্যানুসারে, ডিএসই ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিডল্যান্ড ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন পর্যালোচনা করে। দেখা যায়, ১৩ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১২ টাকা ৪০ পয়সা, যা ২৩ সেপ্টেম্বর বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ টাকা ৬০ পয়সায়। অর্থাৎ এ সময়ে শেয়ারদর বেড়েছে ১৫ টাকা ২০ পয়সা বা ১২২ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
তদন্তে দেখা যায়, কুয়েস্ট এশিয়া ওভারসিজ, মালিক আনিছুল ইসলাম ও তার স্ত্রী নাহার-ই-জান্নাত- এই তিন পক্ষ শেয়ার কেনাবেচায় অতিরিক্ত সক্রিয় ছিলেন। তাদের লেনদেনের কারণে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি হয় এবং শেয়ার দর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে, যা সিকিউরিটিজ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ফলে কমিশন কুয়েস্ট এশিয়া ওভারসিজকে ৩ কোটি ৭০ লাখ, আনিছুল ইসলামকে ৮০ লাখ এবং নাহার-ই-জান্নাতকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে।
বিএসইসি জানিয়েছে, তাদের লেনদেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯-এর সেকশন ১৭(ই)(ভি) লঙ্ঘন করেছে, যা একই অর্ডিন্যান্সের ২২ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। জরিমানার অর্থ ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ। ১৫ কোটি ৬১ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৬৭ লাখ ৪৪ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। দ্বিতীয় স্থানে ছিল ওরিয়ন ইনফিউশন, যার লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার। শীর্ষ দশে থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান হলো: মুন্নু ফেব্রিক্স, বিডি থাই ফুডস, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস, একমি পেস্টিসাইডস, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, লাভেলো আইসক্রিম, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ এবং এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ।দিনের মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষে ছিল দেশবন্ধু পলিমার- মূল্যবৃদ্ধির হার ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে ছিল মুন্নু এগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারিজ, যার মূল্যবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। শীর্ষ দশে আরো ছিল : মুন্নু ফেব্রিক্স, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোড, কপারটেক, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও ইনটেক অনলাইন।
এ দিন সবচেয়ে বেশি দরপতন হয় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন কোম্পানি মেঘনা পেট্রোলিয়ামের। প্রতিষ্ঠানটি ২০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণার পর রেকর্ড-পরবর্তী মূল্য সমন্বয়ে ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ দর হারায়। ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ দরপতন হয় প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের। পতনশীল শীর্ষ দশে আরো ছিল : এফএএস ফিন্যান্স, হামিদ ফেব্রিক্স লিমিটেড, জিএসপি ফিন্যান্স, নুরানি ডাইং, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন্স, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, শ্যামপুর সুগার মিলস ও মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক।