ঢাবির হলে নিয়ম ভেঙে ছাত্রদল নেতাকে সিট বরাদ্দের অভিযোগ
Printed Edition
ঢাবি প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক (এফএইচ) মুসলিম হলে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সিট সঙ্কট থাকা সত্ত্বেও বিশেষ বিবেচনায় ভর্তি হওয়া এক ছাত্রদল নেতাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে সিট দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। হলের ২য় বর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থীরা সিট না পেলেও প্রশাসনের সহায়তায় ওই নেতাকে সিট বরাদ্দ দেয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও হল সংসদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম এস এম দিদারুল ইসলাম। তিনি ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০১০-১১ সেশনের শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার শিক্ষার্থীদের পুনঃভর্তির বিশেষ সুযোগের আওতায় তিনি সম্প্রতি ফের ছাত্রত্ব ফিরে পান।
ডিনস কমিটির সিদ্ধান্ত ছিল, হলে সিট খালি থাকা সাপেক্ষে এ ধরনের শিক্ষার্থীরা সিট পাবেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের উপেক্ষা করে তাকে ১১৮ নম্বর কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে হল প্রশাসন। হল সংসদের ভিপি খন্দকার আবু নাইম জানান, গত আগস্টে সিদ্ধান্ত হয়েছিল সিট খালি সাপেক্ষে বরাদ্দ দেয়ার; কিন্তু ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দিদারুলসহ ছয়জনকে সিট দেয়া হয়েছে। এই অনিয়মের প্রতিবাদে হল সংসদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা তৎকালীন ভিসিকে স্মারকলিপি দিলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটি গঠনের সাত মাস পার হলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত দিদারুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বিগত সময়ে ছাত্রলীগের নির্যাতনের কারণে তিনি বহিষ্কৃত হয়েছিলেন এবং বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েই তিনি ভর্তির সুযোগ ও সিট পেয়েছেন। অন্য দিকে, এফএইচ হলের প্রভোস্ট ড. ইলিয়াস আল মামুন জানান, বিশেষ বিবেচনায় ভর্তি হওয়া ছয়জনকে নিয়ে শিক্ষার্থীরা আপত্তি তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে আগামী প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিংয়ে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রভোস্ট ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনও বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী মিটিংয়ে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা ও নিয়মবহির্ভূত সিট বরাদ্দের ঘটনায় হল সংসদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।