জাপানে আঘাত হেনে চীনের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে টাইফুন ডলফিন
Printed Edition
রয়টার্স
টাইফুন ডলফিনের তাণ্ডবে জাপানের ওকিনাওয়ায় ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দেশটিতে ৫০ হাজারেরও বেশি স্থাপনা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। অন্য দিকে টাইফুনের আঘাতের আশঙ্কায় চীনের পূর্ব উপকূলে বন্দর কার্যক্রম বন্ধ এবং ফেরি চলাচল স্থগিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
জাপানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওকিনাওয়ায় পাঁচজন প্রবীণ নাগরিক আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন তীব্র বাতাসের কারণে পড়ে যান। তবে কারও আঘাতই আশঙ্কাজনক নয়। এ ছাড়া কাগোশিমায় একজন আহত হয়েছেন। জানা যায়, কাগোশিমায় প্রায় ৩৯ হাজার এবং ওকিনাওয়ায় ১২ হাজারের বেশি ভবন বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থাগুলো এবং জাপান এয়ারলাইনস ওকিনাওয়াগামী ও ওকিনাওয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।
টাইফুনটির আঘাতে জাপানের ওকিনাওয়া এবং কাগোশিমার আমামি দ্বীপ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। টাইফুনটির কেন্দ্রস্থলে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার (৮৯ দশমিক ৫ মাইল), যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ২১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।
অন্য দিকে স্থানীয় সময় রোববার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে টাইফুনটি চীনে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। চীনের ন্যাশনাল মেটিওরোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, ঝেজিয়াং প্রদেশের ঝোউশান শহর এবং ফুজিয়ান প্রদেশের ফুডিং শহরের মধ্যবর্তী কোনো এলাকায় টাইফুনটি আঘাত হানার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এর কেন্দ্রের কাছে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৮ থেকে ৪৫ মিটার (৮৫ থেকে ১০১ মাইল) হতে পারে। চীনের আবহাওয়াবিদেরা পূর্বাভাসে আরো জানিয়েছেন, আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত চীনের পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের প্রভাব পড়তে পারে।
ঝেজিয়াংয়ের উপকূলীয় এলাকায় সর্বোচ্চ মাত্রার টাইফুন সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সব ধরনের বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া পূর্ব ও দক্ষিণ চীনের কর্তৃপক্ষ ফেরি চলাচল স্থগিত করেছে, কিছু নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছে এবং মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে।