পশ্চিম তীরে ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদ
মার্কিন অধিকারকর্মীদের ইসরাইলে প্রবেশের অনুমতি বাতিল
Printed Edition
আনাদোলু ও আলজাজিরা
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার প্রতিবাদে অংশ নেয়া কয়েকজন মার্কিন ইহুদি অধিকারকর্মীর ভ্রমণ অনুমতি বাতিল করেছে ইসরাইল। মার্কিন ইহুদি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ফরোয়ার্ড’ শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।
কর্মী স্যাম শেরম্যান জানান, পশ্চিম তীরের মাসাফের ইয়াত্তায় সাত সপ্তাহের একটি স্বেচ্ছাসেবী কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার সময় তিনি ভ্রমণ অনুমতি বাতিলের ই-মেইল পান। একই সময়ে তার দলের আরো কয়েকজন একই বার্তা পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি। শেরম্যান বলেন, ফিলিস্তিনিদের সাথে অবস্থানকালে বসতি স্থাপনকারীদের সাথে সংঘর্ষের সময় ইসরাইলি সেনা, পুলিশ ও সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীরা তার পাসপোর্টের ছবি তোলে। তবে অনুমতি বাতিলের কারণ ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানায়নি।
এদিকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার তথ্যমতে, শনিবার জেনিনের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইয়াবাদ শহরে প্রায় ১৫টি সামরিক যান প্রবেশ করে। শহরের প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়ে কয়েক ডজন বাড়িতে তল্লাশি ও বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কয়েকজন তরুণকে মারধর এবং বাড়িঘরের মালামাল নষ্ট করার অভিযোগও উঠেছে।
গাজায় ‘যুদ্ধবিরতির’ পরও ১২৫৭ ফিলিস্তিনিকে হত্যা
গাজায় প্রায় প্রতিদিনই চলছে ইসরাইলি দখলদারদের বর্বরোচিত তাণ্ডব। রোজ ঝরছে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের প্রাণ। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত ৪৮ ঘণ্টায় অবরুদ্ধ উপত্যকার হাসপাতালগুলোতে আরো দুই ফিলিস্তিনির লাশ এসেছে। এ সময় নতুন হামলায় আহত হয়েছেন আরো ছয়জন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে শুরু হওয়া কথিত ‘যুদ্ধবিরতির’ পর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় এক হাজার ২৫৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো চার হাজার ১৩১ জন।
গাজায় কমেনি ইসরাইলি বিধিনিষেধ- জাতিসঙ্ঘ
গাজা উপত্যকায় জুলাই মাসে মানবিক সহায়তা সরবরাহের পরিমাণ ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে সেখানে ত্রাণ প্রবেশের ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের কড়াকড়ি রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডটিতে মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা এখনো অনেক বেশি।
ফারহান হক বলেন, ‘এরপরও আমাদের মানবিক সহায়তা প্রদানকারী অংশীদাররা সতর্ক করে বলেছেন, গাজায় কী ধরনের ত্রাণ প্রবেশ করতে দেয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো বিধিনিষেধ রয়ে গেছে।’
অধিকৃত পশ্চিম তীরের মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জাতিসঙ্ঘের এই উপ-মুখপাত্র। তিনি জানান, জেরুসালেমের কালান্দিয়া ক্যাম্পে ইসরাইলি বাহিনীর টানা দুই দিনের অভিযানের পর জাতিসঙ্ঘ ও এর অংশীদাররা সেখানে পরিদর্শন করেছে। ফারহান হক বলেন, ‘আমাদের দল সেখানে বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখতে পেয়েছে। ইসরাইলি বাহিনী বাড়িঘরের ভেতরে অবস্থান করার কারণে দরজা, জানালা ও আসবাবপত্রের ক্ষতি হয়েছে বলে কয়েক ডজন পরিবার জানিয়েছে। অনেকেই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কথা জানিয়েছেন।’
ফিলিস্তিনের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের বর্বরোচিত হামলা শুরুর পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও তাণ্ডব বাড়িয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও দখলদাররা। এসব নৃশংস হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ১৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১৩ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এ ছাড়া গ্রেফতার করা হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার জনকে।