শাদ ও ভেনিজুয়েলাকে সদস্যপদ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান আইসিসির

Printed Edition

এএফপি

আন্তর্জাতিক ফৌজদারি অপরাধ আদালত (আইসিসি) সদস্যপদ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য শাদ ও ভেনিজুয়েলার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে দেশ দু’টির সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইসিসি।

আদালতের নেতৃত্বদানকারী প্রেসিডেন্সি কাউন্সিলের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই ঘটনায় প্রেসিডেন্সি দুঃখ প্রকাশ করছে।’ বর্তমানে ফিনল্যান্ড, সিয়েরা লিওন ও পোল্যান্ডের প্রতিনিধিদের নিয়ে আইসিসির প্রেসিডেন্সি কাউন্সিল গঠিত।

বিবৃতিতে বলা হয়, রোম সংবিধির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি থেকে কোনো দেশের সরে যাওয়া ‘ন্যায়বিচারের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত এবং অপরাধের দায় থেকে অব্যাহতি বন্ধে বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিতে পারে।’ এতে আরো বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আইসিসি। এর কার্যকারিতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত ও দ্ব্যর্থহীন সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল।’ আইসিসির প্রেসিডেন্সি কাউন্সিল শাদ ও ভেনিজুয়েলাকে ‘রোম সংবিধির সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে তাদের অঙ্গীকার অব্যাহত রাখার’ আহ্বান জানিয়েছে।

ভেনিজুয়েলা গত ২৫ জুলাই হেগে অবস্থিত আইসিসি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এর দু’দিন পর একই সিদ্ধান্ত নেয় চাদ। তদন্তের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে উভয় দেশই আদালতটির সমালোচনা করেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও আইসিসির বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চাপ বাড়ায়। আদালতটি মার্কিন নাগরিকদের জন্য হুমকি- এমন অভিযোগ তুলে ওয়াশিংটন নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেয় এবং অন্য দেশগুলোকেও আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সাথে আইসিসির সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। আদালতের কয়েকজন বিচারকের ওপর এরই মধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শাদ অভিযোগ করেছে, আইসিসি আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। আফ্রিকার সামরিক জান্তা-শাসিত বুরকিনা ফাসো, মালি ও নাইজারও আইসিসি থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছে। আইসিসির তদন্তের আওতায় থাকা ভেনিজুয়েলাও একই ধরনের অভিযোগ করেছে।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফেলিক্স প্লাসেনসিয়া বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা মনে করে, আদালতের কার্যক্রমে ভৌগোলিক পক্ষপাতিত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। এর ফলে আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর ওপর আদালতের কার্যক্রম অসমভাবে বেশি কেন্দ্রীভূত হয়েছে।’ ২০১৪ সাল থেকে ভেনিজুয়েলায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে আইসিসি।