কিয়েভের কাছে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, শিশুসহ নিহত ৪
Printed Edition
বিবিসি
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে গভীর রাতে রাশিয়ার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক শিশুসহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো তিনজন। শনিবার ভোরে কিয়েভের পূর্বাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই ইউক্রেনজুড়ে রুশ হামলায় ২১ জন নিহত হয়েছিলেন।
আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আবাসিক ভবন ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; আগুন ধরে যায় একটি ভবনে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো টেলিগ্রাম পোস্টে জানান, জরুরি উদ্ধারকারী দল একটি ভবন ও জ্বালানি ট্যাংকের আগুন নেভাতে কাজ করছে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা ডিএসএনএস গ্যারেজ, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও ভবনে আগুন লাগার ছবি শেয়ার করে বলেছে, ‘হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করা হচ্ছে।’
কিয়েভে এমন এক সময়ে এ হামলা হলো, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার প্রথম সরকারি সফরে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে পৌঁছেছেন। আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ফুরিয়ে আসায় রুশ হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতা নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
এদিকে বিশ্বজুড়ে ইউক্রেনের পক্ষে সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন জেলেনস্কি। ইউক্রেনকে সহায়তা ও পুনর্গঠনের আশ্বাস দিয়েছে ইইউতে যোগদানের প্রক্রিয়ায় থাকা সার্বিয়া। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ রাশিয়ার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে আগ্রহী নন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক, ইইউয়ের সাথে সম্পর্ক ও নিরাপত্তা প্রশ্নে বেলগ্রেডে দুই নেতার আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে জেলেনস্কি বলেছিলেন, মিত্রদের কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেতে বিলম্বের কারণে ‘ভয়াবহ প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ’ ঘটছে। শক্তিশালী ইন্টারসেপ্টর সক্ষমতা থাকলে সাম্প্রতিক এসব মারাত্মক হামলায় ‘জীবন বাঁচানো যেত’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, মিত্রদের কাছ থেকে ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ এ বছর ‘উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস’ পেয়েছে। কিয়েভে হামলার আগে ইউক্রেন রাশিয়ার বেশ ভেতরে দু’টি তেল শোধনাগার এবং কৃষ্ণসাগরে মস্কো সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালায়। জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থের জোগান কমাতে এই হামলা চালানো হয়েছিল। আলোচনা থমকে যাওয়ায় দুই দেশের মধ্যে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের তীব্রতা সম্প্রতি নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে।