ঢাকা জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যায় সম্মিলিত বাহিনী

Printed Edition
বাংলাদেশ
ঢাকা জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যায় সম্মিলিত বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক

মুক্তিযোদ্ধারা একের পর এক বিভিন্ন অঞ্চল মুক্ত করতে করতে ঢাকার দিকে এগিয়ে চলে। মিত্রবাহিনীও মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় দ্রুত এগিয়ে আসে ঢাকার দিকে। সম্মিলিত বাহিনী যুগপৎ এগিয়ে চলে রাজধানী ঢাকা জয়ের লক্ষ্যে।

আগেই আশুগঞ্জ, দাউদকান্দি ও চাঁদপুরে পৌঁছে যায় সম্মিলিত বাহিনী। একটি দল গিয়ে পৌঁছে ময়মনসিংহে। নৌবাহিনীর গানবোটগুলো এগিয়ে চলে। বিমানবাহিনীর আক্রমণ চলে পুরোদমে। গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর চাঁদপুর দখল করে নেয় তারা। চাঁদপুর থেকে নদী বক্ষে শত্রুর সৈন্য বোঝাই একটি বড় স্টিমারের ওপর মিত্রবাহিনীর সাঁজোয়া ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণ এবং বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। স্টিমারটিতে আগুন ধরে ডুবে যায়। অনেক পাকিস্তানি সৈন্য এ ঘটনায় মারা যায়।

এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় পাকিস্তান ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল নিয়াজি ১৯৭১ সালের আজকের এ দিনে পশ্চিম পাকিস্তানে একটি বার্তা পাঠান। তাতে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি খুবই সঙ্কটপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, আকাশে শত্রুর আধিপত্যের কারণে পুনর্বিন্যাস করা সম্ভব নয়। বিমানঘাঁটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত তিন দিনে কোনো মিশন পরিচালিত হয়নি। ভবিষ্যতেও সম্ভব নয়। শত্রুর হামলায় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঙালিরা আরো বেশি শত্রুভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে। শত্রুকে তারা সবরকম সাহায্য করছে। তারা শত্রুদের পথ দেখিয়ে পরিচালনা করছে। পরিস্থিতিকে খুবই নাজুক উল্লেখ করে নিয়াজি বলেন, ঢাকা রক্ষার জন্য যদি সম্ভব হয় বিমানবাহী সৈনিকের পুনঃসমাবেশ ঘটানো হোক।

এ দিকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ডা: এম এ মালেক আজকের এ দিনে এক বার্তায় জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে বলেন, ‘আশু যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক মীমাংসা বিবেচনার জন্য আরো একবার আপনার প্রতি আবেদন জানাচ্ছি’। এর জবাবে জেনারেল ইয়াহিয়া খান জানান, ‘পূর্ব পাকিস্তানের বিষয়টি আপনার শুভবুদ্ধি ও বিবেচনার ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। আপনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন আমি তাই অনুমোদন করব। আমি একই সাথে লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজিকে নির্দেশ দিচ্ছি, যাতে তিনি আপনার সিদ্ধান্ত মেনে নেন এবং সেই অনুসারে সব কিছুর আয়োজন করেন।

লে. জেনারেল নিয়াজির কাছেও একই ধরনের এক বার্তায় তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে সব ব্যবস্থা আমি নিয়েছি। কিন্তু আমাদের বিচ্ছিন্ন অবস্থার প্রেক্ষাপটে পূর্ব পাকিস্তান সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি আমি আপনার সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি।

এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার জন্য পাকিস্তান শেষ চেষ্টা চালায়। কিন্তু তার আগেই পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধ সমাপ্তি টানতে চায় মিত্রবাহিনী। তারা কোনো বিলম্ব না করে ঢাকা দখলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। তাদের একমাত্র লক্ষ্য ঢাকায় পৌঁছানো।