তাইওয়ান ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘে জাপান ও চীনের টানাপড়েন

Printed Edition

আলজাজিরা

জাতিসঙ্ঘে তাইওয়ান ইস্যু ঘিরে জাপান ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সম্প্রতি পার্লামেন্টে দেয়া এক বক্তব্যে বলেন, তাইওয়ানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ জাপানের জন্য ‘অস্তিত্বের হুমকি’ হয়ে দাঁড়াবে। এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে এবং তা জাতিসঙ্ঘে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ-প্রতি-উত্তরে রূপ নিয়েছে।

চীনের জাতিসঙ্ঘে স্থায়ী প্রতিনিধি ফু কং মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে একাধিক চিঠি পাঠিয়ে অভিযোগ করেছেন, জাপান আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, টোকিওকে এ বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে, নইলে ‘সব ধরনের পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। চীনের মতে, তাকাইচির মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

অন্যদিকে জাপানের জাতিসঙ্ঘ প্রতিনিধি কাজুয়ুকি ইয়ামাজাকি পাল্টা চিঠিতে চীনের অভিযোগকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন, জাপানের অবস্থান ১৯৭২ সালের জাপান-চীন যৌথ ঘোষণার পর থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে। টোকিওর মতে, তাদের বক্তব্য কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রতিফলন, কোনোভাবেই চীনকে উসকানি দেয়ার উদ্দেশ্যে নয়। এ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে জাতিসঙ্ঘে এক ধরনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ঘটনা শুধু জাপান-চীন সম্পর্ককেই নয়, বরং পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করছে। তাইওয়ানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।