জেল ভেঙে ৩৪১ জনের পলায়ন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯৭১ সালের মার্চ মাসে একের পর এক দ্রুত ঘটনা ঘটতে থাকে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী মতা হস্তান্তর করতে বিলম্ব করার পাশাপাশি সামরিক অভিযানেরও প্রস্তুতি নিতে থাকে। এ পরিস্থিতিতে পূর্ব পাকিস্তানে অসন্তোষ দানা বেঁধে ক্রমেই উত্তাল হয়ে ওঠে। এ দিকে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলের গেট ভেঙে ৩৪১ জন বন্দী পলায়ন করে। পলায়নকালে পুলিশের গুলিতে সাতজন নিহত হয় এবং আহত হয় আরো ৩০ জন। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান বেলা ১টা ৫ মিনিটে জাতির উদ্দেশে বেতারে ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি বাংলাদেশের বিুব্ধ জনতাকে দুষ্কৃতকারী হিসেবে আখ্যা দেন এবং ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেন।

ইতিহাসের পরবর্তী ঘটনাবলি বিশেষ করে ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যার ঘটনা প্রমাণ করে তার এ ঘোষণা ছিল আসলে একটি প্রতারণা। ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলনরত পূর্ব পাকিস্তানকে দমন এবং শায়েস্তা করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিল সামরিক সরকার। সে প্রস্তুতির ল্েযই সময়পেণের কৌশল হিসেবে ২৫ মার্চ পর্যন্ত দেয়া হয় জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের তারিখ।

অন্য দিকে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বাতিলের প্রতিবাদে পাঁচ দিনব্যাপী হরতাল কর্মসূচি শেষ হয়। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে সভার প্রস্তুতি এবং জাতীয় পরিষদের নতুন তারিখ ঘোষণার বিষয়ে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এবং ডাকসুর নেতৃবৃন্দসহ অন্য কয়েকটি দল ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বৈঠকের পর বৈঠক করতে থাকেন। অলি আহাদের সভাপতিত্বে বিকেলে পল্টন ময়দানে জনসভা এবং মুজাফফর আহমদ-এর নেতৃত্বে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।