ফটিকছড়িতে অর্ধশতাধিক ইটভাটা হুমকিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য
Printed Edition
মুহাম্মদ ফজল করিম ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) থেকে
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় অর্ধশতাধিক ইটভাটা দীর্ঘ দিন ধরে নির্বিঘেœ পরিচালিত হয়ে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ভাটায় সংরক্ষিত বনের মূল্যবান কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) কেটে ইটের কাঁচামাল হিসেবে নেয়া হচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ছে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ফটিকছড়িতে বর্তমানে ৫১টি ইটভাটা রয়েছে, যার কোনোটিরই বৈধ পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। সরেজমিন হারুয়ালছড়ি, পাইন্দং, কাজিরহাট ও খিরাম ইউনিয়নে একতা ব্রিকস, এবি ব্রিকস, গ্রামীণ ব্রিকস, দাদা ব্রিকস ও এমবি ব্রিকসসহ বিভিন্ন ভাটায় প্রকাশ্যে সংরক্ষিত বনের কাঠ মজুদ ও পোড়াতে দেখা গেছে। পাশাপাশি হালদা নদীর তীর ও আশপাশের জমি থেকে অবাধে মাটি ও বালি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী, ইট পোড়াতে কয়লা ব্যবহার বাধ্যতামূলক এবং আবাসিক এলাকা, সংরক্ষিত বন, কৃষিজমি ও জলাভূমিতে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। তবে ফটিকছড়ির অধিকাংশ ভাটা এসব বিধি লঙ্ঘন করেই পরিচালিত হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালুতে বায়ু দূষণ বেড়ে গিয়ে স্থানীয়দের শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভাটা মালিক জানান, অভিযানের আগে খবর পেলে কাঠ সরিয়ে কয়লা সাজিয়ে রাখা হয়। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে ভাটা স্থাপনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে তারা বাজারে টিকে থাকার অজুহাতও দেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, ‘ফটিকছড়ির টপসয়েল অত্যন্ত উর্বর। এটি কেটে নেয়া হলে কৃষিজমি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেয়া হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রামের গবেষণা কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন বলেন, অধিকাংশ ভাটার লাইসেন্স নেই বা মেয়াদোত্তীর্ণ। ইতোমধ্যে কয়েকটি ভাটার চিমনি ভেঙে দেয়া হয়েছে এবং বাকিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে টেকসই ও ধারাবাহিক অভিযান না হলে ফটিকছড়ির প্রাণ-প্রকৃতি ও জনস্বাস্থ্য আরো বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।