সংরক্ষিত নারী আসন
নুসরাতের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে যাচাই- বাছাইয়ের নির্দেশ
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নির্বাচনে অংশ নিতে নুসরাতের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ছিল ২১ এপ্রিল এবং মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের তারিখ ছিল ২২ ও ২৩ এপ্রিল।
রিট আবেদনকারী পক্ষ জানায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পরে নুসরাত তাবাসসুম মনোনয়নপত্র দাখিল করতে গেলে রিটার্নিং কর্মকর্তা তা গ্রহণ করেননি। এর বৈধতা নিয়ে গতকাল রিট করেন তিনি। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন, সাথে ছিলেন আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা ও মো: মনিরুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান ও মাহফুজ বিন ইউসুফ। পরে আইনজীবী মো: মনিরুজ্জামান বলেন, হাইকোর্ট নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে যাচাই-বাছাই করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন। ২১ এপ্রিল তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ না করা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
আইভীর জামিন বহাল থাকবে কি না, জানা যাবে ৩ মে
এদিকে হত্যার অভিযোগে চারটিসহ পৃথক পাঁচ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল থাকবে কি না, তা আগামী ৩ মে জানা যেতে পারে। ওই পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) ওপর আদেশের জন্য আগামী ৩ মে দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। শুনানি নিয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো: আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ গতকাল আদেশের এ দিন ধার্য করেন।
ওই পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় করা হত্যা মামলা এবং অপরটি হচ্ছে হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় করা মামলা। এই পাঁচ মামলায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট আইভীর জামিন প্রশ্নে রুল দিয়ে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
ওই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক আবেদন করে। শুনানি নিয়ে ৫ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আইভীকে হাইকোর্টের দেয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত করেন। একই সাথে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর গতকাল শুনানি হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফাতেমা আক্তার শুনানি করেন। আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, সাথে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন (সাজু) ও আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান।
গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দমন-পীড়নের ঘটনায় দায়ের হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দু’টি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। প্রথম পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত বছরের ৯ নভেম্বর জামিন পান কারাবন্দী সেলিনা হায়াৎ আইভী। এই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক পাঁচটি আবেদন করে। শুনানি নিয়ে চেম্বার আদালত গত বছরের ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। আবেদনগুলো আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায়।
দ্বিতীয় দফায় পাঁচ মামলায় ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট থেকে জামিনের পর আইভীকে আরো দু’টি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন করা দু’টি (হত্যার অভিযোগ) মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। একটিতে ২ মার্চ ও অপর মামলায় ১২ এপ্রিল গ্রেফতার দেখানো হয়।
২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন আইভী। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে জয়ী হন তিনি।