লালমনিরহাটের ৩ সংসদীয় আসনে ভোটের হিসাব-নিকাশ
তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি-জামায়াত
Printed Edition
আসাদুল ইসলাম সবুজ লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের তিনটি সংসদীয় আসনে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। ১১ লাখ ২৮ হাজার ৫৫০ ভোটারের সমর্থন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াত। একসময় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই জেলা এখন ভিন্ন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে। রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সাংগঠনিক দুর্বলতায় আওয়ামী লীগ মাঠের বাইরে, আর জাতীয় পার্টি কার্যত নিষ্ক্রীয়। ফলে এই সুযোগ কাজে লাগাতে চায় বিএনপি। তবে জামায়াতে ইসলামীও নতুন উদ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে নির্বাচনী মাঠে।
গত দেড় দশকে এমন উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল না। এবার ভোটের আমেজ ফিরেছে নতুন আঙ্গিকে। জেলার তিনটি আসনেই সক্রিয় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। ভোটারদের উপস্থিতি, আলোচনা ও আগ্রহে বোঝা যাচ্ছে- এবারের নির্বাচনে ভোটারদের প্রত্যাশা অনেক বড়।
তিস্তা ও ধরলা নদী বিধৌত লালমনিরহাট জেলার আয়তন এক হাজার ২৪৭ দশমিক ৩৭১ বর্গকিলোমিটার। এখানে পাঁচটি উপজেলা, ৪৫টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভা রয়েছে। তিনটি সংসদীয় আসনে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, জাসদ, লেবার পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, জনতার দলসহ পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে ছয়জন, ২-আসনে (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) সাতজন এবং ১-আসনে (হাতিবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে ৯ জন প্রার্থী রয়েছেন। জেলায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৩৬৫টি। রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ পাঁচ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৪ জন এবং নারী পাঁচ লাখ ৬৪ হাজার ৩০ জন।
লালমনিরহাট-৩ (সদর) : ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোটার তিন লাখ তিন হাজার ৯১৩ জন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন- জামায়াতের অ্যাডভোকেট আবু তাহের (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির জাহিদ হাসান লিমন (লাঙ্গল), কমিউনিস্ট পার্টির অ্যাডভোকেট মধুসূদন রায় (কাস্তে), গণসংহতি আন্দোলনের দীপক কুমার রায় (মাথাল) এবং ইসলামী আন্দোলনের আমিনুল ইসলাম (হাতপাখা)।
লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) : ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে ভোটার সংখ্যা চার লাখ ২৬ হাজার ৭৩০ জন। এখানে প্রার্থী সাতজন। তারা হলেন- জামায়াতের ফিরোজ হায়দার লাভলু (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির রোকন উদ্দিন বাবুল (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির এলাহান উদ্দিন (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের মাহফুজুর রহমান (হাতপাখা), কমিউনিস্ট পার্টির নিমাই চন্দ্র রায় (কাস্তে), জনতার দলের শামীম কামাল (কলম) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মমতাজ আলী (মোটরসাইকেল)।
লালমনিরহাট-১ (হাতিবান্ধা-পাটগ্রাম) : ২০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোটার তিন লাখ ৯৭ হাজার ৯২২ জন। এখানে ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন, বিএনপির হাসান রাজীব প্রধান (ধানের শীষ), জামায়াতের আনোয়ারুল ইসলাম রাজু (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির মসিউর রহমান রাঙ্গা (লাঙ্গল), জাসদের হাবিব মো: ফারুক (মোটরগাড়ি), লেবার পার্টির শুভ আহমেদ (আনারস), ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ ফজলুল করিম শাহারিয়া (হাতপাখা) এবং তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
সাধারণ ভোটাররা প্রত্যাশা করছেন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। তারা বলছেন, যোগ্য, সৎ, নির্ভীক ও জবাবদিহিমূলক প্রার্থীই তাদের পছন্দ। নতুন ভোটারদের মধ্যেও চলছে অতীত-ভবিষ্যতের হিসাব, কে কী করেছেন এবং কে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে পারবেন, সেটাই তাদের বিবেচ্য বিষয়।
যদিও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, তবে দলটির সমর্থকদের ভোট শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে ১১ লাখ ভোটের এই লড়াইয়ে লালমনিরহাট এখন রাজনীতির উত্তপ্ত ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।