সংবাদ প্রকাশের জের
ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে নয়া দিগন্তের সাংবাদিককে আটক করলেন এসিল্যান্ড
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
পেশাগত দায়িত্ব পালন ও সংবাদ প্রকাশের জেরে নয়া দিগন্তের বাজিতপুর উপজেলা সংবাদদাতা আলী জামসেদকে আটক করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নিকলী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা অ্যাসিল্যান্ড প্রতীক দত্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে তাকে আটক করেন। স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, অ্যাসিল্যান্ডের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ‘আক্রোশ’ থেকে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েক দিন ধরে অ্যাসিল্যান্ড প্রতীক দত্তের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে আলী জামসেদসহ কয়েকজন সংবাদকর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার নয়া দিগন্ত পত্রিকায় ‘একজন মুক্তিযোদ্ধার নাতি রিকশাচালককে মারধর এবং ৩৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে খাস জমি থেকে উচ্ছেদে নোটিশ প্রদান’ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অ্যাসিল্যান্ড এই অভিযান পরিচালনা করেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে স্থানীয় হাসপাতাল মোড়ের একটি দোকানে বসে থাকা অবস্থায় আলী জামসেদকে আটক করা হয়। যদিও অ্যাসিল্যান্ড প্রতীক দত্তের দাবি, ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় তাকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সাংবাদিককে আটকের উদ্দেশ্যেই সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত সাজানো হয়েছিল এবং আটকের সময় তাকে লাঞ্ছিতও করার পাশাপাশি দু’টি মোবাইলও নিয়ে নেয়া হয়। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নিকলী থানা পুলিশের সাথেও অ্যাসিল্যান্ড অশোভন আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জবাবদিহি পত্রিকার সাংবাদিক আলমগীর হোসেন এবং রূপালী বাংলাদেশের নিকলী প্রতিনিধিসহ একাধিক সংবাদকর্মী অভিযোগ করেছেন, প্রতীক দত্তের দুর্নীতির খবর প্রকাশ করায় তারা বিভিন্ন সময় হেনস্তা ও ভীতির শিকার হয়েছেন। তারা জানান, আলী জামসেদ দীর্ঘ দিন ধরে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে কাজ করছেন। সংবাদ প্রকাশের জেরে এমন পদক্ষেপকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর ‘নগ্ন হস্তক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন তারা। নিকলীতে কর্মরত সাংবাদিকরা অবিলম্বে আলী জামসেদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং অভিযুক্ত অ্যাসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
আলী জামসেদকে আটকের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি এক ফেসবুক পোস্টে জানান, অ্যাসিল্যান্ড প্রতীক দত্তের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি সাংবাদিক আলী জামসেদকে আটক করেছেন। তিনি এই ঘটনার সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে অ্যাসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সাথে একজন সংবাদকর্মীকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হেনস্তা করার অপরাধে তাকে শাস্তির আওতায় আনারও আহ্বান জানান তিনি।