ট্রান্সজেন্ডারবান্ধব শ্রম আইন বাতিল, হিজবুত তাওহীদকে নিষিদ্ধ, কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং কোরআন-সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক আইন প্রণয়ন না করাসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ কমিটি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় উলামা মাশায়েখ কনভেনশনে সরকারের কাছে এসব দাবি জানানো হয়।

মাওলানা আব্দুল আউয়াল পীর সাহেব ডিআইটির সভাপতিত্বে এবং মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন ও মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর যৌথ সঞ্চালনায় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন পাকিস্তানের মাওলানা ইলিয়াস গুম্মান।

কনভেনশনে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা শায়েখ সাজিদুর রহমান বলেন, হিজবুত তাওহীদ দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর মতবাদ প্রচারের মাধ্যমে মুসলিম সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। সংগঠনটির কার্যক্রম ও মতাদর্শ দেশের শান্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং ইসলামী আকিদা-বিশ্বাসের জন্য হুমকিস্বরূপ। বিষয়টি তদন্ত করে সংগঠনটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তিনি।

ড. সরোয়ার বলেন, সংসদে পাস হওয়া ট্রান্সজেন্ডারবান্ধব শ্রম আইন দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা বাতিল করতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে কোনো বিতর্কিত আদর্শ বা মূল্যবোধ চাপিয়ে দেয়া যাবে না।

মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মুসলমান হানাফি মাজহাবের অনুসারী। এ দেশের মানুষ সালাফি শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে চায় না। প্রয়োজনে তাকে অন্য মন্ত্রণালয়ে দেয়ার দাবি জানান তিনি।

কনভেনশনে বক্তারা বলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ঈমান-আকিদা ও বিশ্বাস সংরক্ষণে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি এবং ইসলামবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর মতবাদ প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া জরুরি। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ঈমান-আকিদা, ইসলামী মূল্যবোধ ও ধর্মীয় চেতনা রক্ষায় আলেম-ওলামা, ইসলামী চিন্তাবিদ ও ধর্মপ্রাণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

কনভেনশনে সরকারের কাছে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—

১. মহান আল্লাহ, রাসূল সা:, পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা।

২. কোরআন-সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করা।

৩. প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।

৪. কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহীদকে নিষিদ্ধ করা।

৫. জাতীয় শিক্ষা সিলেবাসের ধর্মশিক্ষা বইয়ে নবী ও সাহাবিদের জীবনচরিত সংযুক্ত করা।

৬. জাতীয় সংসদে পাস হওয়া শ্রম আইন থেকে ট্রান্সজেন্ডার শব্দগুলো বাতিল করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর চিন্তা-চেতনার আলোকে দ্বি-লিঙ্গ নীতি ঘোষণা করা।

৭. মুসলিম পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে হাইকোর্টে স্বতন্ত্র শরীয়াহ বেঞ্চ গঠন করা।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, ইসলামী মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক অধিকার সমুন্নত রেখে সমাজে নৈতিকতা, শালীনতা ও পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষায় রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একইসাথে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা-বিশ্বাস সংরক্ষণে জাতীয়ভাবে গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

কনভেনশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মুফতি মুহাম্মদ আবুল মালেক, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী পীর সাহেব দেওনা, মুফতি জসিম উদ্দিন হাটহাজারী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী ও মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী।

এ ছাড়া মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা মাহবুবুল্লাহ কাসেমী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদীসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।