ইরানের হামলার অজুহাতে গাজার সব প্রবেশপথ বন্ধ করেছে ইসরাইল
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর উদ্ভূত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে গাজা উপত্যকার সব ক’টি সীমান্ত পথ (ক্রসিং) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি সরকারি কার্যক্রম সমন্বয়কারী সংস্থা কোগাটের (সিওজিএটি) বরাতে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছে আলজাজিরা। এর ফলে গাজার একমাত্র আন্তর্জাতিক প্রবেশপথ রাফাহ সীমান্ত দিয়েও সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও ত্রাণ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কোগাট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সাথে সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গাজা ও পশ্চিম তীরের সব সীমান্ত পয়েন্টে ‘নিরাপত্তা সমন্বয়’ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এ ছাড়া গাজায় কর্মরত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মানবিক সহায়তা কর্মীদের রোটেশন বা যাতায়াতও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে ইসরাইলের দাবি, বর্তমান সীমান্ত বন্ধের ফলে গাজার মানবিক পরিস্থিতিতে ‘তৎক্ষণাৎ কোনো প্রভাব পড়বে না’। ইসরাইলের এমন দাবি নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন :
ত্রাণ সরবরাহ ব্যাহত : গত অক্টোবর মাসে তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় যে পরিমাণ ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
চিকিৎসা সঙ্কট : প্রায় ২০ হাজার গুরুতর অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনি বর্তমানে বিদেশে চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন। রাফাহ ক্রসিং বন্ধ হওয়ার ফলে তাদের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মুখে।
বিচ্ছিন্ন জনপদ : এই পদক্ষেপের ফলে গাজা উপত্যকা আবারো বহির্বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির পর ইসরাইলজুড়ে বর্তমানে ‘জরুরি অবস্থা’ জারি রয়েছে। আঞ্চলিক এই যুদ্ধের উত্তাপ গাজার মানবিক সঙ্কটকে আরো গভীর করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসঙ্ঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। এদিকে ইসরাইলি সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, ইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ‘নিরাপত্তাজনিত সমন্বয়’-এর অজুহাতে শনিবার রাফাহ বন্ধ করা হয়। একই সাথে গাজায় মানবিক কর্মীদের প্রবেশ ও রোটেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। টিআরটি ওয়ার্ল্ড। জানায়, এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন গাজার অধিকাংশ অবকাঠামো ধ্বংস, খাদ্য ও চিকিৎসা সঙ্কট তীব্র এবং প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত। কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর সীমিত পরিসরে খুলেছিল রাফাহ, যা বেসামরিক মানুষের জন্য একমাত্র বড় বহির্গমন পথ ছিল। নতুন করে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আতঙ্ক ও হতাশা আরো বেড়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের কর্মকাণ্ড নিয়ে চাপ বাড়ছে।
পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরাইল
ইরান, ইসরাইল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধের মাঝখানে পড়ে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা। একদিকে ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, অন্যদিকে ইসরাইলের বৈষম্যমূলক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা- এই দুয়ের চাপে পিষ্ট হচ্ছে কোনো সামরিক সুরক্ষা না থাকা লাখ লাখ ফিলিস্তিনি। খবর আলজাজিরার।
ইসরাইলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (যেমন আয়রন ডোম) মূলত ইসরাইলি শহর এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইহুদি বসতিগুলোকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য তৈরি। সাম্প্রতিক হামলায় দেখা গেছে, ইসরাইলি ডিফেন্স সিস্টেম অনেক সময় ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে তাদের বসতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে, যা প্রায়শই ফিলিস্তিনি জনবসতির ওপর গিয়ে পড়ছে। ফিলিস্তিনিদের জন্য কোনো আগাম সতর্কতা বা আশ্রয়কেন্দ্র (বাংকার) না থাকায় তারা কার্যত খোলা আকাশের নিচে মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে।