বিমানের ঢাকা-কুয়েত রুটের ফ্লাইট চলাচল ৩১ জুলাই পর্যন্ত সাসপেন্ড

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক : মাঝে মধ্যে মিসাইল পড়ছে

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

ঢাকা-কুয়েত রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চলাচল আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত সাসপেন্ড রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নতুন শিডিউল অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার কুয়েতের উদ্দেশে যাত্রী নিয়ে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই বিমানের বলাকা ভবন থেকে কুয়েতের বাংলাদেশ স্টেশন সংশ্লিষ্টদের ফ্লাইট স্থগিত হওয়ার বার্তাটি জানিয়ে দেয়া হয়। তবে কি কারণে এবং কেন বারবার শিডিউল পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে তা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কেউ নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি। তবে ফ্লাইট চলাচল শুরু না হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের অসংখ্য প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের।

এ দিকে সম্প্রতি হঠাৎ করে ইরানের সাথে ফের মার্কিন ও ইসরাইলের তুমুল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শুরু হয়েছে অশনি সঙ্কেত। তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত, কাতার, ওমান, বাহরাইন আবুধাবিসহ কয়েকটি দেশে থাকা আমেরিকান ঘাটি লক্ষ্য করে একের পর এক মিসাইল হামলা চালাচ্ছে। তবে এর প্রভাব ওই সব দেশে থাকা সাধারণ নাগরিকদের ওপর পড়ছে না বলে দাবি করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা।

গতকাল কুয়েত থেকে প্রবাসী বাংলাদেশীরা জানান, আজ থেকেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল শুরুর কথা ছিল। কিন্তু ঢাকার বিমান হেডকোয়ার্টার থেকে কুয়েতে বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজারকে জানানো হয়, ঢাকা-কুয়েত রুটের ফ্লাইট চলাচল অনিবার্য কারণে আজ থেকে শুরু হচ্ছে না। বরং আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত এই রুটে ফ্লাইট চলাচল সাসপেন্ড থাকবে। বিমানের ফ্লাইট বন্ধ থাকার সুযোগে কুয়েতের সরকারি এয়ারলাইন্স জাজিরা ও কুয়েত এয়ারওয়েজ এই রুটে ‘একচেটিয়া’ ব্যবসা করছে বলে প্রবাসীরা অভিযোগ করছেন। এক প্রশ্নের উত্তরে মহিউদ্দিন নামে একজন প্রবাসী বাংলাদেশী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কুয়েত বিমানবন্দরে মিসাইল হামলা হওয়ার পর বন্ধ ছিল। পরে সেটি আবার চলাচলের উপযোগী করা হয়। তবে বিমানের ম্যানেজমেন্ট কি কারণে ঢাকা-কুয়েত রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চালু করতে পারছে না তা তো আমরাও বুঝতে পারছি না।

গতকাল রাতে কুয়েত সিটির বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের স্টেশন সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নিজের পরিচয় না জানিয়ে নয়া দিগন্তকে বলেন, আজ (১৪ জুলাই) থেকেই কিন্তু ঢাকা-কুয়েত রুটে নতুন করে ফ্লাইট চলাচল শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঢাকা থেকে সেই শিডিউল পরিবর্তন করে ১৬ জুলাই করা হয়। এর পরপরই জানানো হয়, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত ফ্লাইট সাসপেন্ড থাকবে। যাত্রী না পাওয়ার কারণে মনে হয় এমন হতে পারে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, এর আগে ৯ জুন ফ্লাইট চালানোর শিডিউল দিয়ে নতুন তারিখ দেয়া হয়েছিল। সেটিও বাতিল করা হলো। এতে বিমান আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। স্টেশনের কর্মকর্তাদের কর্মহীন সময় কাটছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে কুয়েত রুটে ফ্লাইট চলাচল শুরুর লক্ষ্যে বিমানবন্দরে যাত্রীদের বোর্ডিং পাস দেয়ার পর কর্তৃপক্ষ ফ্লাইট বাতিল করে দিয়েছিলেন। এর পর থেকে এই রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে। সপ্তাহে তিন দিন এই রুটে বিমানের ফ্লাইট চলাচল করত। এখন কি কারণে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে সেটি জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে পারব না। এটা ঢাকার হেডঅফিস থেকে ভালো বলতে পারবে।

গতকাল জালাল উদ্দিন নামে একজন কুয়েত প্রবাসী নয়া দিগন্তকে বলেন, মধ্যে প্রাচ্যে আবারো যুদ্ধ শুরু হয়েছে। মাঝে মধ্যে ঢুসঠাস আওয়াজ পাই আমরা। তবে এর প্রভাব সাধারণ নাগরিকদের ওপর পড়ছে না। তার মতে, মধ্যে প্রাচ্যের দেশ কুয়েত, আবুধাবি, ওমানসহ অন্যান্য দেশের আমেরিকান যেসব ঘাটি লক্ষ্য করে ইরান মিসাইল মারছে সেসব এলাকা থেকে তারা ঘাটি সরিয়ে নিয়েছে। দুবাই থেকে আমিনুল ইসলাম নামের একজন ব্যবসায়ী গত রাতে নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন দুবাই শহরে যুদ্ধের কোনো প্রভাব নেই। আল্লাহর রহমতে আমরা সবাই সুস্থ আছি।