পানছড়িতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
Printed Edition
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার মোহাম্মদপুর বাজার সড়ক নির্মাণকাজে নি¤œমানের খোয়া ও রাবিশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একাধিকবার অনিয়মের প্রতিবাদে কাজ বন্ধ হলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আবার সড়ক নির্মাণকার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স কবি রঞ্জন। তবে মূল ঠিকাদার নিজে কাজ না করে তা সাব-ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলমের কাছে হস্তান্তর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাব-ঠিকাদার মেকাডম পরিষ্কার না করেই নি¤œমানের ইটের খোয়া ও রাবিশ ব্যবহার করে পিচ ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন। এতে স্থানীয়দের বাধার মুখে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকে। পরে একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ‘ম্যানেজ’ করে সময় বাড়িয়ে আবার কাজ শুরু করা হয়। গত ৬ জানুয়ারি নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার করে পিচ ঢালাইয়ের চেষ্টা করলে এলাকাবাসীর সাথে সাব-ঠিকাদার ও তার সহযোগীদের বাগি¦তণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা থানায় অভিযোগ করেন।
মোহাম্মদপুর এলাকার কামাল, আলী আকবর ও হাবিবুর রহমানসহ ৪৬ পরিবার জেলা এলজিইডি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারা বলেন, রাস্তায় নি¤œমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে এবং রাবিশের ওপর পিচ ঢেলে সিলেটি পাথর দিয়ে কার্পেটিং করা হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে সড়কটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মতিয়ার জানান, শুরুতে কিছু নি¤œমানের খোয়া ব্যবহার হলেও বর্তমানে ভালো মানের খোয়া আনা হয়েছে। তবে কাজের মান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্তব্য করা যাবে না।
খাগড়াছড়ি সদর ও পানছড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী রাজু আহম্মেদ বলেন, ‘কাজ পরিদর্শন করা হয়েছে। বিটুমিন ও পাথর নিয়ম অনুযায়ী রয়েছে। মেকাডমে ত্রুটি থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এলাকাবাসী দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও কঠোর তদারকির মাধ্যমে মানসম্মত সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।