রেলের দীঘিতে বড়শি প্রতিযোগিতার নামে জুয়ার অভিযোগ

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন ভেলুয়ার দীঘিতে বড়শি প্রতিযোগিতার নামে জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছে। ১৩ দশমিক ৭৪ একর আয়তনের জলাশয়টিতে ১১২টি আসন তৈরি করে প্রতিটি টিকিট ৭৫ হাজার টাকা করে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। সব টিকিট বিক্রি হলে এক দিনেই আয় দাঁড়ায় ৮৪ লাখ টাকা। রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগ বলছে, মৎস্য ইজারার শর্ত অনুযায়ী দীঘিতে এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের সুযোগ নেই। এ আয়োজন বন্ধে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি), স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে চিঠিও দেয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই নির্দেশনার পরও গত শুক্রবার সেখানে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: খোরশেদ আলম চৌধুরীর দফতর থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আব্দুল মান্নান খোকন ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত জলাশয়টির বৈধ লাইসেন্সধারী। চিঠিতে বড়শি প্রতিযোগিতা আয়োজন, টিকিট বিক্রি ও জুয়ার আসর বসানোকে ইজারা শর্তের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে রেলওয়ের ভূসম্পত্তি নীতিমালা-২০২০ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে আরএনবি ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে আয়োজন বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়। রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, চিঠি পাওয়ার পর আরএনবি সদস্যরা এলাকায় মাইকিং করে প্রতিযোগিতা বন্ধের কথা জানান। পরে স্থানীয়ভাবে তদবিরের অভিযোগের মধ্যে শুক্রবার আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মো: মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইঞা বলেন, বড়শি প্রতিযোগিতার নামে জুয়া বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: লুৎফুর রহমান বলেন, রেলের জলাশয়ে বড়শি প্রতিযোগিতার নামে জুয়া বেআইনি এবং এটি ইজারা শর্তের লঙ্ঘন।

আয়োজকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১১২টি আসনের বিপরীতে ১৭টি পুরস্কারে মোট ৩০ লাখ টাকা দেয়ার কথা। স্থানীয়দের দাবি, এর আগে টিকিটের মূল্য ছিল প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এবার বিভিন্ন পক্ষকে ‘ম্যানেজ’ করার কথা বলে মূল্য বাড়ানো হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

ভেলুয়ার দীঘির আয়োজনের সাথে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সবুর লিটনের নামও স্থানীয় কয়েকটি সূত্র উল্লেখ করেছে। রাজনৈতিকভাবে আত্মগোপনে থাকা লিটনের স্বার্থে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি আয়োজনটি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার সহায়তার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।