দলীয়করণ ও ইউএনও কার্যালয়ে হামলায় উদ্বেগ সাবেক কর্মকর্তাদের
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে ‘নির্বিচার দলীয়করণ’, মেধাবী ও সৎ কর্মকর্তাদের বদলি এবং ওএসডি করে হয়রানি এবং মাঠ প্রশাসনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কার্যালয়ে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রিটায়ার্ড বিসিএস অফিসার্স ফোরাম (আরবিওএফ)।
গত শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ অভিযোগ করে। সরকারের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আরবিওএফ বলেছে, প্রশাসনে দলীয় প্রভাব বিস্তার এবং রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের পদায়ন প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, সুশাসন ও প্রচলিত প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি আইন-কানুন মেনে চলার কারণে বিদ্যুৎ সচিবকে ওএসডি এবং জ্বালানি সচিবকে বদলি করা হয়েছে বলে তারা মনে করছে। একই ধারাবাহিকতায় এর আগে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানকেও ওএসডি করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ‘পুরনো স্বজনতোষী নীতির’ ভিত্তিতে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে- বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এমন অভিযোগও করেছে সংগঠনটি। একই সাথে বিভিন্ন করপোরেশন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের ‘নজিরবিহীনভাবে’ পদায়নের অভিযোগ তুলে আরবিওএফ বলেছে, এর ফলে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও সুশাসন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মাঠ প্রশাসনের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংগঠনটি। বিবৃতিতে বলা হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিভিন্ন পদে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বাছাই করতে গেলে হয়রানি ও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। কোনো কোনো উপজেলায় মব তৈরি করে ইউএনওকে উপজেলা ছাড়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘সভ্য সমাজে অকল্পনীয়’ বলে অভিহিত করেছে আরবিওএফ।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে মেধা ও যোগ্যতার কথা বললেও বাস্তবে স্বজনতোষী নীতি ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে। সংগঠনটির মতে, এটি জুলাই আন্দোলনের আকাক্সক্ষার সাথে প্রতারণার শামিল।
নির্বাচন কমিশন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আরবিওএফ। সংগঠনটির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ে সরকারদলীয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত একজন সাবেক নি¤œপদের বিভাগীয় কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে। তাদের দাবি, এ ধরনের নিয়োগ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারের এমন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ‘ন্যূনতম নৈতিক সাহস’ দেখাতে পারেনি। এ কারণে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের ‘আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে’ পরিণত হওয়ার অভিযোগও তুলেছে সংগঠনটি। অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগ দেয়া অনেক সচিবের নিয়োগ বাতিল হলেও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব এখনো বহাল রয়েছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
আরবিওএফের মতে, একটি কল্যাণমুখী, দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনে ন্যায়সঙ্গত নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতির বিকল্প নেই। এ জন্য সরকারকে ‘ন্যায়ের পথে ফিরে আসার’ আহ্বান জানিয়ে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
একই সাথে সরকারের কথিত অন্যায্য ও দুর্নীতিপ্রবণ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে রাজনৈতিক শক্তি, বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রশাসনকে দলীয় রাজনীতিমুক্ত রাখার পাশাপাশি পদায়ন ও পদোন্নতিতে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মাধ্যমে ‘বৈষম্যমূলক চর্চা’ অবিলম্বে বাতিলেরও দাবি জানিয়েছে আরবিওএফ।
বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি সরকারের সাবেক সচিব মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম এবং মহাসচিব সাবেক সচিব ড. মো: শরীফুল আলম স্বাক্ষর করেছেন।