‘ইন্টারনেট-বিদ্যুৎ না থাকায় বের হয়ে বিজিবি-পুলিশের গুলিতে শহীদ হন মামুন’

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে রাজধানীর রামপুরা ওয়াপদা রোড এলাকায় বিজিবি ও পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে তিতুমীর কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মামুন মিয়া নিহতের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে করুণ ও হৃদয়বিদারক সাক্ষ্য দিয়েছেন তার সেজো ভাই মো: রুবেল।

গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে সাক্ষ্য প্রদানকালে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বিজিবির তৎকালীন লে. কর্নেল রেদোয়ান, মেজর রাফাত, এডিসি রাশেদুল ও ওসি মশিউরসহ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দীতে সাক্ষী মো: রুবেল জানান, তার ছোট ভাই মামুন মিয়া সরকারি তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি রামপুরা ওয়াপদা রোডের ওমর আলী লেনে থাকতেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই দেশব্যাপী বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ না থাকার কারণে মামুন কৌতূহলবশত রুম থেকে বাইরে বের হন। সে সময় তিন/চারটি গাড়ি সাইরেন বাজিয়ে ওয়াপদা রোডের মাথায় পৌঁছায় এবং বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা হঠাৎ সাধারণ মানুষের ওপর চারদিক থেকে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ শুরু করে।

ভীতসন্ত্রস্ত মানুষ ছোটাছুটি শুরু করলে ঘাতকদের একটি গুলি মামুনের মাথার পিছন দিক দিয়ে ঢুকে বাম চোখের ওপর দিয়ে বের হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তার রুমমেট পারভেজ ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে রামপুরা বেটার লাইফ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সেখান থেকে মুগদা হাসপাতালে নেয়া হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় মামুনকে শেরেবাংলা নগরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জবানবন্দীতে রুবেল আরো জানান, রাতে গাজীপুরে কর্মরত অবস্থায় ভাগ্নে নিরবের ফোন পেয়ে তিনি ভোর ৫টায় হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে জরুরি অস্ত্রোপচারের পর মামুনকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হলেও ১৯ জুলাই বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে লাশ শরীয়তপুর সদর থানার চর চিকন্দী গ্রামে নিয়ে বাদ মাগরিব দাফন করা হয়। সাক্ষ্যের শেষ পর্যায়ে সাক্ষী কান্নায় ভেঙে পড়ে বিজিবির তৎকালীন কর্মকর্তা লে. কর্নেল রেদোয়ান, মেজর রাফাত, এডিসি রাশেদুল ও ওসি মশিউরসহ জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।

এ দিকে জুলাই আন্দোলনে রামপুরা এলাকায় ২৮ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রোববার বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো: রাফাত-বিন-আলমকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ক্যান্টনমেন্টের বিশেষ কারাগার (সাব-জেল) থেকে তাদের প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। মামলার অপর দুই আসামি পুলিশের সাবেক এডিসি মো: রাশেদুল ইসলাম ও সাবেক ওসি মো: মশিউর রহমান পলাতক। ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে পরবর্তী আদেশের জন্য শুনানি মুলতবি করেন। পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২০ আগস্ট দিন ধার্য্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।