নির্বাচন ৫ বছরের আর গণভোট শত বছরের জন্য : প্রধান উপদেষ্টা
ইউএনওদের সাথে বৈঠক
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী নির্বাচন পাঁচ বছরের জন্য, আর গণভোট শত বছরের জন্য। ভোটারদের বোঝাতে হবে যে আপনারা মন ঠিক করে আসুন ‘হ্যাঁ’-তে দেবেন নাকি ‘না’-তে ভোট দেবেন। মন ঠিক করে আসুন।
গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে সারা দেশের উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদানকালে এ কথা বলেন তিনি। সব জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।
গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচনকে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখতে হবে।
ইউএনওদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ইতিহাস আমাদের নতুন করে একটি সুযোগ দিয়েছে। অন্য জেনারেশন এই সুযোগ পাবে না। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারব, আর যদি না পারি তাহলে জাতি মুখ থুবড়ে পড়বে।’ মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এর আগেও আমরা নির্বাচন দেখেছি। বিগত আমলে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, যেকোনো সুস্থ মানুষ বলবে, এটা নির্বাচন নয়, প্রতারণা হয়েছে।’
সরকারপ্রধান বলেন, আগামী নির্বাচন অন্যান্য দায়িত্বের মতো নয়; বরং একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব। আমরা যদি ভালোভাবে এই দায়িত্বটি পালন করতে পারি, তাহলে আগামী নির্বাচনের দিনটি জনগণের জন্যও ঐতিহাসিক হবে। আপনারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন তাহলেই সরকার তার দায়িত্বটি সফলভাবে পালন করতে সক্ষম হবে। আগামী নির্বাচন ও গণভোট দু’টিই জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, নির্বাচন আগামী পাঁচ বছরের জন্য, আর গণভোট শত বছরের জন্য। এর মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে স্থায়ীভাবে পাল্টে দিতে পারি। যে নতুন বাংলাদেশ আমরা তৈরি করতে চাই, তার ভিতটা এর মাধ্যমে গড়তে পারি।
সদ্য যোগদান করা ইউএনওদের উদ্দেশে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আপনাদের প্রধান দায়িত্ব হলো একটি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর নির্বাচন আয়োজন করা।
ইউএনওদের নিজ নিজ এলাকার সব পোলিং স্টেশন পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ, এলাকাবাসী এবং সহকর্মীদের সাথে আলোচনা করে একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘ভোটারদের বোঝাতে হবে যে আপনারা মন ঠিক করে আসুন ‘হ্যাঁ’-তে দেবেন নাকি ‘না’-তে ভোট দেবেন, মন ঠিক করে আসুন।’
প্রধান উপদেষ্টা কর্মকর্তাদের ধাত্রীর সাথে তুলনা করে বলেন, ধাত্রী ভালো হলে জন্ম নেয়া শিশুও ভালো হয়। তিনি কর্মকর্তাদের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সৃজনশীল হওয়ার পাশাপাশি অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেন।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার প্রদানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নারীরা যেন ঠিকভাবে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
শিগগিরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত কখন, কিভাবে, কোন কাজটি করবেন, তার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি এখন থেকেই নিন।’
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম এবং জনপ্রশাসন সচিব মো: এহছানুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।