ক্ষেপণাস্ত্র ফুরানোর তথ্য লুকানোয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ওপর ট্রাম্পেরক্ষোভ

Printed Edition

ওয়াশিংটন পোস্ট

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ গত সপ্তাহে ক্যাম্প ডেভিডে বিস্ফোরিত হয়েছে। সেখানে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জানতে চান- অস্ত্র ও গোলাবারুদের এই চরম ঘাটতি নিয়ে কেন তাকে অন্ধকারে রাখা হলো? এই ঘাটতির কারণে এখন ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বিকল্পগুলো সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত দু’টি সূত্র ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-কে এই তথ্য জানিয়েছে।

গত শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকের ফাঁকে ট্রাম্প ও হেগসেথের মধ্যে এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। আলোচনার বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা প্রতিশোধের ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ট্রাম্প হেগসেথের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন যে, তিনি ভেবেছিলেন গোলাবারুদ ও অস্ত্রের সঙ্কট ‘সমাধান করা হয়েছে’।

একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ করে দূরপাল্লার গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের (ইন্টারসেপ্টর) চরম ঘাটতির কারণেই মূলত ট্রাম্প সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের ওপর অতিরিক্ত কোনো বড় হামলা চালানো থেকে বিরত রয়েছেন।

ট্রাম্প গত সোমবার বলেছিলেন যে, তিনি ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা’র নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং পরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন আলোচনার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তা বাতিল করেন। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মতো কিছু ওয়ান-স্টপ বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিপ বা যুদ্ধাস্ত্রের জন্য নতুন উৎপাদন চুক্তি ঘোষণা করেছে, তবে এই গোলাবারুদগুলো তৈরি করতে প্রায় দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে এই চরম সঙ্কটের কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান দৃশ্যমান নয়।

ওয়াশিংটন পোস্টের আগের খবর অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম মাসেই মার্কিন বাহিনী ৮৫০টিরও বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং এক হাজারটিরও বেশি প্যাট্রিয়ট এবং থাড সিস্টেম নিক্ষেপ করেছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্ট-কে জানিয়েছেন, যুদ্ধের শুরুর সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর এক হাজার ৩০০টিরও বেশি ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। সংশ্লিষ্ট একজন জানিয়েছেন, ইউক্রেনের কাছে অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ‘এটাকমস’-এর মার্কিন মজদ এখন এতটাই ফুরিয়ে গেছে যে, কার্যত আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট নেই, যা চলতি সপ্তাহের শুরুতে রয়টার্সের প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছিল।

প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের এই তীব্র ঘাটতি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও প্রভাব ফেলেছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফুরিয়ে আসছে।